'ভিবি-জি রামজি আইন' গরিব ও রাজ্যগুলির উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাবে, অভিযোগ কংগ্রেসের
নয়াদিল্লি, ১ জুলাই (হি.স.) : ''বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন - গ্রামীণ বা ''ভিবি জি রামজি'' আইন কার্যকর হওয়ার পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, এই প্রকল্পে ব্যয়ের অনুপাত ৬০ : ৪০ হওয়ায় গরিব মানুষের
'ভিবি-জি রামজি আইন' গরিব ও রাজ্যগুলির উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাবে, অভিযোগ কংগ্রেসের


নয়াদিল্লি, ১ জুলাই (হি.স.) : 'বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন - গ্রামীণ বা 'ভিবি জি রামজি' আইন কার্যকর হওয়ার পর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, এই প্রকল্পে ব্যয়ের অনুপাত ৬০ : ৪০ হওয়ায় গরিব মানুষের পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলির উপরও অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপবে।

বুধবার দিল্লিতে দলীয় সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস সাংসদ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত রাজ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সপ্তগিরি উলকা বলেন, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি প্রকল্প (মনরেগা) ছিল অধিকারভিত্তিক ও চাহিদাভিত্তিক কর্মসংস্থানের প্রকল্প। কিন্তু নতুন আইনে রাজ্যগুলির উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি জানান, মনরেগায় শ্রমিকদের মজুরির প্রায় পুরো অর্থই কেন্দ্র সরকার বহন করত এবং উপকরণ বাবদ ব্যয়ে ৬০ : ৪০ অনুপাত কার্যকর ছিল। ফলে রাজ্যগুলির উপর চাপ কম পড়ত। কিন্তু ভিবি-জি রামজি আইনে মজুরি ও উপকরণ— উভয় ক্ষেত্রেই ৬০ : ৪০ ব্যয়ের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, হরিয়ানার জন্য ৯৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও তার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৩৯৩ কোটি টাকা রাজ্যকেই বহন করতে হবে। এত ব্যয় করেও বছরে মাত্র ১৩.৭৮ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে। কর্মদিবস ১২৫ দিনে বাড়াতে গেলে রাজ্যকে অতিরিক্ত প্রায় ৫,৭৮৬ কোটি টাকা খরচ করতে হবে।

সপ্তগিরি উলকার অভিযোগ, কেন্দ্র ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার দাবি করলেও অর্থ বরাদ্দের ঘাটতি সেই দাবির অসারতা প্রমাণ করছে। নতুন আইনে গ্রামসভার ভূমিকা কার্যত তুলে দিয়ে সমস্ত ক্ষমতা সরকারি আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ মনরেগায় কোন এলাকায় কী কাজ হবে, তা গ্রামসভাই ঠিক করত। পাশাপাশি, মনরেগায় কাজের আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যে কাজ না মিললে বেকার ভাতার বিধান ছিল, যা নতুন আইনে আর রাখা হয়নি।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ বলেন, মোদী সরকার ইতিমধ্যেই ভিবি-জি রামজি প্রকল্প এবং নতুন মজুরি পরিকাঠামোর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কিন্তু অধিকাংশ রাজ্যে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার আশপাশে রাখা হয়েছে, যা শ্রমিকদের প্রতি অন্যায়। তিনি বলেন, কংগ্রেসের 'শ্রমিক ন্যায়' কর্মসূচিতে জাতীয় ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া, মোদী সরকারের গঠিত ড. অনুপ শতপথী কমিটিও ২০১৯ সালেই দৈনিক ন্যূনতম ৩৭৫ টাকা মজুরির সুপারিশ করেছিল।

জয়রাম রমেশ আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলিতে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভ চলছে। গ্রামীণ মজুরি স্থবির হয়ে থাকাও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কম মজুরি দেওয়া শুধু অন্যায়ই নয়, অর্থনীতির পক্ষেও ক্ষতিকর।

তিনি জানান, মনরেগার আগের অধিকারভিত্তিক ও চাহিদাভিত্তিক কাঠামো ফিরিয়ে আনার দাবিতে কংগ্রেস রাস্তায় থেকে সংসদ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তাঁর কথায়, মনরেগার মূল লক্ষ্য ছিল 'প্রত্যেক হাতে কাজ এবং কাজের ন্যায্য মজুরি' নিশ্চিত করা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande