
আগরতলা, ১ জুলাই (হি.স.) : কূটনীতির আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডি পেরিয়ে কখনও কখনও একটি ছোট্ট উপহারও হয়ে ওঠে দুই দেশের মানুষের হৃদয়ের বন্ধনের প্রতীক। ঠিক তেমনই সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও আন্তরিকতার বার্তা নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রালয় এবারও ত্রিপুরায় পাঠিয়েছে ৬০০ কিলোগ্রাম উৎকৃষ্ট মানের হরিভঙ্গা ও আম্রপালি আম। প্রতিবছরের মতো এ বছরও মৌসুমী উপহার ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও একবার নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।
বাংলাদেশ সরকারের প্রেরিত আমের ডালি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু এবং মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যেও এই উপহার বিতরণ করা হবে।
আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার হাসান আল বাশার আবুল উলায়ী বলেছেন, শুভেচ্ছা ও বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে প্রতিবছরের মতো এবারও ত্রিপুরার জন্য ৬০০ কিলোগ্রাম হরিভঙ্গা ও আম্রপালি জাতের আম পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি ফলের উপহার নয়, দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, আন্তরিকতা এবং ঐতিহাসিক সম্পর্কের এক অনন্য প্রতীক।
সহকারী হাইকমিশনার বলেন, প্রতিবছর এই মৌসুমী ফল বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার মানুষের মধ্যে যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা আজ এক মূল্যবান ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে পাঠানো আমের চালান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট হয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করে। সীমান্তে শুল্ক বিভাগের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পর চালানটি আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মোট ১২০টি কার্টুনে প্যাককৃত ৬০০ কিলোগ্রাম হরিভঙ্গা ও আম্রপালি জাতের আম পর্যায়ক্রমে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল এবং রাজ্যের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই দেশের এই সৌজন্য বিনিময় এখন আর কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবছর বাংলাদেশ যেমন ত্রিপুরায় সুস্বাদু আম পাঠিয়ে শুভেচ্ছার বার্তা পৌঁছে দেয়, তেমনি পাল্টা সৌজন্য হিসেবে ত্রিপুরা সরকার বাংলাদেশকে জিআই ট্যাগকৃত বিখ্যাত কুইন জাতের আনারস উপহার দেয়। এই ফল বিনিময় আজ দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক আস্থা, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের হৃদ্যতার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি মানুষে-মানুষে বিশ্বাস ও ভালোবাসার যে সেতুবন্ধন গড়ে উঠেছে, এই ছোট্ট অথচ হৃদয়স্পর্শী উপহার সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করে। এক ঝুড়ি মিষ্টি আম যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, সীমানা আলাদা হলেও বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য আর আন্তরিকতার কোনও সীমারেখা নেই।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ