
নয়াদিল্লি, ১০ জুলাই (হি.স.) : আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন (এবিডিএম)-এর স্টিয়ারিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠকে শুক্রবার সভাপতিত্ব করে দেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ ও মিশনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা।
বৈঠকে নাড্ডা বলেন, এবিডিএম-এর আওতায় শক্তিশালী ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এবার সেই পরিষেবাকে দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য, যাতে নাগরিকরা নিরাপদ, সহজ ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা পান।
তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারত–২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করে নাগরিককেন্দ্রিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জানানো হয়, আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলির অন্যতম। এখনও পর্যন্ত ৯৩.৯৫ কোটিরও বেশি ‘আভা’ নম্বর ইস্যু করা হয়েছে এবং ১০৫ কোটিরও বেশি স্বাস্থ্য নথি ডিজিটালভাবে সংযুক্ত হয়েছে। এছাড়া ৫.৩৩ লক্ষ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং ৯.৮৫ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেজিস্ট্রিতে নথিভুক্ত হয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২.৭২ লক্ষ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এবিডিএম সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। বহির্বিভাগে (ওপিডি) রোগী নিবন্ধন আরও সহজ করতে ২৪ কোটিরও বেশি ‘স্ক্যান অ্যান্ড রেজিস্টার’ টোকেন জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রোগীরা নিজেদের সম্মতির ভিত্তিতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নিরাপদে ডিজিটাল স্বাস্থ্য নথি ব্যবহার করতে পারছেন।
বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মিশনের সম্প্রসারণ, সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়, স্বাস্থ্য পরিষেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহার এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য মানদণ্ড বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মডেল জেলা ও মডেল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণের উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয়।
বৈঠকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা, মধ্যপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র শুক্ল, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতাপরাও জাধব, অনুপ্রিয়া পটেল, জিতিন প্রসাদ, নীতি আয়োগ, জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, আয়ুষ মন্ত্রক এবং বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য