বেঙ্গালুরুতে মা, ঠাকুমা ও মামাকে খুনের পর যুবকের আত্মহত্যা, তদন্তে পুলিশ
বেঙ্গালুরু, ১১ জুলাই (হি.স.) : কর্নাটকের বেঙ্গালুরুর কামাক্ষীপাল্যা থানার অন্তর্গত কোট্টিগেপাল্য এলাকায় শনিবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ৩৪ বছর বয়সি এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের মা, ঠাকুমা ও মামাকে খুন করার পর বাড়ির একটি ঘরে ফাঁস লাগিয়ে
বেঙ্গালুরুতে মা, দিদিমা ও মামাকে খুনের পর যুবকের আত্মহত্যা, তদন্তে পুলিশ


বেঙ্গালুরু, ১১ জুলাই (হি.স.) : কর্নাটকের বেঙ্গালুরুর কামাক্ষীপাল্যা থানার অন্তর্গত কোট্টিগেপাল্য এলাকায় শনিবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ৩৪ বছর বয়সি এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিজের মা, ঠাকুমা ও মামাকে খুন করার পর বাড়ির একটি ঘরে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।

মৃতদের পরিচয় জানা গিয়েছে— যুবকের মা মঙ্গলাম্মা, ঠাকুমা নঞ্জাম্মা এবং মামা সতীশ। অভিযুক্ত তথা মৃত যুবকের নাম প্রশান্ত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় পরিবারের কর্তা চিক্কণ্ণা কর্মস্থলে ছিলেন। বাড়িতে প্রশান্ত-সহ মোট চারজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রশান্ত প্রথমে তাঁর মামা সতীশের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। চিৎকার শুনে তাঁকে থামাতে এলে মা মঙ্গলাম্মা ও দিদিমা নঞ্জাম্মার উপরও এলোপাথাড়ি কোপ মারে। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। এরপর প্রশান্ত বাড়ির একটি ঘরে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। কামাক্ষীপাল্যা থানার পুলিশ ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেন। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

মৃত যুবকের বাবা চিক্কণ্ণা জানান, শুক্রবার রাতে পরিবারের সবাই স্বাভাবিকভাবে একসঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমোতে গিয়েছিলেন। ছেলের আচরণেও কোনও অস্বাভাবিকতা তিনি লক্ষ্য করেননি। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি যদি সেই সময় বাড়িতে থাকতাম, সম্ভবত আমাকেও ছাড়ত না।”

পশ্চিম বিভাগের পুলিশ উপ-কমিশনার (ডিসিপি) যতীশ জানান, বাড়িতে মোট পাঁচজন সদস্য থাকতেন, যার মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তিনজনের দেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন মিলেছে। ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রশান্ত কিছুদিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন এবং তাঁর মানসিক অসুস্থতার সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ পুলিশ। কামাক্ষীপাল্যা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পারিবারিক পরিস্থিতি, ব্যক্তিগত কারণ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে পুলিশ। তদন্তে ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক রিপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande