
নয়াদিল্লি, ১১ জুলাই (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিউ জিল্যান্ড সফরের আবহে সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যাংকে স্মরণ করলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, ভারত-নিউ জিল্যান্ড সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে ডেভিড ল্যাং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
শনিবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ করা এক পোস্টে জয়রাম রমেশ জানান, ১৯৮৪ সালের জুলাই থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডেভিড ল্যাং। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর ছিল ভারত। সে সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে রাজীব গান্ধীর সঙ্গেও তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়।
জয়রাম রমেশ জানান, ডেভিড ল্যাংয়ের পুত্র রয় ল্যাংয়ের সঙ্গেও ভারতের বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং পরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র প্রযোজক মীতা ভৌমিককে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৫০-এর দশকে ভারত ও নিউ জিল্যান্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই সময় ভারতের দুগ্ধ শিল্পের বিকাশে নিউ জিল্যান্ড সহযোগিতা করেছিল এবং অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস) প্রতিষ্ঠাতেও সহায়তা করেছিল। ভারতের ‘শ্বেত বিপ্লব’-এর জনক ড. ভার্গিস কুরিয়ানকে ১৯৫২-৫৩ সালে ভারত সরকার ফেলোশিপে নিউ জিল্যান্ডে পাঠিয়েছিল, যেখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জয়রাম রমেশের বক্তব্য, ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল হলেও ডেভিড ল্যাং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সেই সম্পর্কে নতুন গতি আসে। তাঁর উদ্যোগেই বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী স্যার এডমন্ড হিলারিকে ভারতে নিউ জিল্যান্ডের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগের নামে দুটি রাস্তার নামকরণও করা হয়েছে। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে এই দুই পর্বতারোহী প্রথমবার মাউন্ট এভারেস্টের শিখরে আরোহণ করে ইতিহাস গড়েছিলেন।
জয়রাম রমেশের মতে, ভারত-নিউ জিল্যান্ড সম্পর্কের ইতিহাসে ডেভিড ল্যাংয়ের সময়কাল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য