
গুয়াহাটি, ১১ জুলাই (হি.স.) : জীবন সুরক্ষা গ্রুপ অব কোম্পানিজ এবং ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধে কথিত বহু কোটি টাকার পঞ্জি ও অর্থ সঞ্চালন চক্র সংক্রান্ত তদন্তে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ), ২০০২-এর অধীনে প্রায় ৫.৫৪ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) গুয়াহাটি জোনাল অফিস।
ইডির গুয়াহাটি জোনাল অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, পিএমএলএ-র ধারা ৫(১) অনুযায়ী জারিকৃত অস্থায়ী বাজেয়াপ্তির আদেশের আওতায় রয়েছে ৪৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা প্রায় ১.৪২ কোটি টাকা এবং প্রায় ৪.১১ কোটি টাকা মূল্যের ২২টি স্থাবর সম্পত্তি। এই সম্পত্তিগুলি অসম, মেঘালয় এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত।
সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর দুর্নীতি দমন শাখা (সিবিআই-এসিবি), গুয়াহাটি কর্তৃক ভারতীয় দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং প্রাইজ চিটস অ্যান্ড মানি সার্কুলেশন স্কিমস (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ১৯৭৮-এর বিভিন্ন ধারায় দায়েরকৃত একাধিক এফআইআর ও চার্জশিটের ভিত্তিতে ইডি এই মানি লন্ডারিং তদন্ত শুরু করে। এছাড়া, আসাম সিআইডি থানা মামলা নম্বর ৮১/২০১২ এবং কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ২০১৩-এর ধারা ২১২ অনুযায়ী সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও) এই মামলার তদন্ত করেছে।
ইডির অভিযোগ, মেসার্স জীবন সুরক্ষা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড, মেসার্স জীবন সুরক্ষা অ্যাসোসিয়েট মার্কেটিং প্রাইভেট লিমিটেড, মেসার্স জীবন সুরক্ষা এনার্জি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির মাধ্যমে জীবন সুরক্ষা গ্রুপ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ৪২২টি শাখা নিয়ে একটি পিরামিডভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পঞ্জি ও অর্থ সঞ্চালন চক্র পরিচালনা করত।
তদন্তে জানা গেছে, সংস্থাটি রেকারিং ডিপোজিট, ফিক্সড ডিপোজিট, পণ্য ও জমি বুকিং, মাসিক আয় প্রকল্প এবং রিডিমেবল প্রেফারেন্স শেয়ারের নামে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করত। সংস্থাগুলির জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত গ্রহণের কোনও বৈধ লাইসেন্স বা আইনগত অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও এ সব প্রকল্পে অস্বাভাবিক উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো।
ইডির দাবি, জীবন সুরক্ষা গ্রুপ প্রায় ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ১৯২ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মোট ৪০৩.৬৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও তাঁদের মাত্র ১৩২.৭২ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল সংস্থাটিকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরা এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা। এর ফলে অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৭০.৯১ কোটি টাকা হয়েছে বলে দাবি ইডির।
তদন্তে নাকি আরও জানা গেছে, এই অর্থ সংগ্রহের পেছনে কোনও প্রকৃত ব্যবসা বা বিনিয়োগ কার্যক্রম ছিল না। নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ পুরনো বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতো। পরবর্তীতে হঠাৎ করে সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে উদ্যোক্তারা ফেরার হয়ে যান।
ইডির আরও অভিযোগ, বিনিয়োগকারীদের অর্থ সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে পরিচালকদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেই অর্থ নগদ উত্তোলন, বিমা পলিসি, স্থায়ী আমানত এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে একাধিক স্তরে ঘুরিয়ে কোম্পানি, ডিরেক্টরগণ, তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের নামে স্থাবর সম্পত্তি কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস