

- শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্যগণ
কোহিমা, ১৩ জুলাই (হি.স.) : নাগাল্যান্ডের চুমৌকেদিমা জেলার অন্তর্গত সুখোভি গ্রাম এলাকায় আসাম রাইফেলস-এর একটি কনভয়ের ওপর ‘ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস’ (আইইডি) হামলায় এক জওয়ান শহিদ হয়েছেন। শহিদ জওয়ানকে হাবিলদার মোহম্মদ ইকবাল বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন ঘায়েল হয়েছেন।
এদিকে আসাম রাইফেলস-এর ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিকাশ লাখেরা, এভিএসএম, এসএম এবং বাহিনীর সর্বস্তরের সদস্য নাগাল্যান্ডে কর্তব্যরত অবস্থায় সর্বোচ্চ আত্মবলিদানকারী হাবিলদার মহম্মদ ইকবালকে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বীর জওয়ানের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছেন তাঁরা।
আসাম রাইফেলস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আসাম রাইফেলস-এর ডিরেক্টর জেনারেল এবং বাহিনীর সকল সদস্য শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছেন এবং এই কঠিন সময়ে তাঁদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহমর্মিতা জানাচ্ছেন।’
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ঘটনার পরপর কোহিমাভিত্তিক ডিফেন্স পিআরও সূত্ৰে প্রাথমিকভাবে প্ৰাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছিল, আইইডি হামলায় তিন জওয়ান শহিদ এবং একাধিক জওয়ান আহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে জানা গেছে, তিন নয়, শহিদ হয়েছেন একজন, তিনি হাবিলদার মোহম্মদ ইকবাল।
জানা গেছে, আজ বিকালে একটি বলেরো পিকআপ-এ করে আসাম রাইফেলস-এর জওয়ানরা চুমৌকেদিমা জেলার অন্তর্গত সুখোভি গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। সে সময় সন্দেহভাজন জঙ্গিরা চলন্ত কনভয়কে লক্ষ্য করে একটি আইইডি নিক্ষেপ করে। এতে শক্তিশালী বিস্ফোরণে পাঁচ জওয়ান গুরুতরভাবে আহত হন। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহম্মদ ইকবাল। এদিকে আহতদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক বলে এক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক এবং কীর্তি চক্র সম্মানপ্রাপ্ত মেজর দিগ্বিজয় সিং রাওয়াত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দাবি করেছেন, এই হামলার পেছনে ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড (আইজ্যাক-মুইভা) সংক্ষেপে এনএসসিএন (আইএম)-এর হাত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, অতীতেও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলায় এনএসসিএন (আইএম) এবং ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম-স্বাধীন (আলফা-স্বা) একসঙ্গে কাজ করেছে।
এক্স-এ কীর্তি চক্র সম্মানপ্রাপ্ত মেজর দিগ্বিজয় সিং রাওয়াত লিখেছেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে চুমৌকেদিমায় আসাম রাইফেলসের কনভয়ের ওপর এনএসসিএন (আইএম)-এর এটি দ্বিতীয় আইইডি হামলা। অতীতের বহু হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে আলফা ও এনএসসিএন একসঙ্গে কাজ করেছে।’
তবে কোনও জঙ্গি সংগঠনের জড়িত থাকার বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইসঙ্গে, আজকের হামলার দায়ও এখন পর্যন্ত কোনও সংগঠন স্বীকার করেনি।
বিস্ফোরণের পর আসাম রাইফেলস এবং ডিমাপুর পুলিশের যৌথ বাহিনী হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে চিরুনি তালাশি অভিযান শুরু করেছে। হামলার স্থান এবং তার আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস