কলকাতা গার্মেন্ট এক্সপোতে বাংলার শিল্প সম্ভাবনার প্রশংসা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের
কলকাতা, ১৩ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউবিজিএমডিএ)-র উদ্যোগে সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত ৬০তম গার্মেন্ট বায়ার্স অ্যান্ড সেলার্স মিট এবং বি২বি এক্সপোর দ্বিতীয় দিন, সোমবার ক্রেতা, খুচরো বিক্রেতা
সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত ৬০তম গার্মেন্ট বায়ার্স অ্যান্ড সেলার্স মিট


কলকাতা, ১৩ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউবিজিএমডিএ)-র উদ্যোগে সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত ৬০তম গার্মেন্ট বায়ার্স অ্যান্ড সেলার্স মিট এবং বি২বি এক্সপোর দ্বিতীয় দিন, সোমবার ক্রেতা, খুচরো বিক্রেতা, পরিবেশক, পাইকারি ব্যবসায়ী এবং পোশাক শিল্পের প্রতিনিধিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেল। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশ-বিদেশের এক হাজারেরও বেশি ব্র্যান্ড পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদের জন্য তাদের লেটেস্ট পোশাক প্রদর্শন করছে। উদ্যোক্তাদের মতে, এই এক্সপো থেকে প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার পাইকারি ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা, আবাসন, এমএসএমই এবং বস্ত্র মন্ত্রী দীপক বর্মণ, বিধায়ক ডঃ রাজেশ কুমার, দিলীপ সিং, বিজয় ওঝা, কাউন্সিলর মীনা দেবী পুরোহিত, সমাজসেবী সুশীল ওঝা সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি ও শিল্পক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ডব্লিউবিজিএমডিএ-র সভাপতি হরি কিষাণ রাঠী, প্রবীণ সহ-সভাপতি বিজয় করিওয়ালা, সহ-সভাপতি প্রদীপ মুরারকা, সাম্মানিক সম্পাদক দেবেন্দ্র বৈদ এবং অন্যান্য পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি রাজ্য এবং এখানে বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার পোশাক শিল্প একসময় দেশের প্রধান শিল্পগুলির অন্যতম ছিল, কিন্তু পূর্বতন শিল্প নীতির কারণে এখান থেকে শিল্পের বিপর্যয় ও পলায়ন ঘটে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাজ্য এখন একটি নতুন শিল্প যুগের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

রাজ্যের বস্ত্র মন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিনিয়োগকারীরা রাজ্যে মাঝারি ও বড় আকারের উৎপাদন ইউনিট গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত 'গার্মেন্ট হাব'-এর দাবিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

ডব্লিউবিজিএমডিএ-র সভাপতি হরি কিষাণ রাঠী জানান, দ্বিতীয় দিনে ক্রেতা এবং প্রদর্শনকারীদের উৎসাহ ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। তাঁর মতে, এই আয়োজন কেবল ব্যবসায়িক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবন এবং নতুন বাজারে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। সমস্ত প্রদর্শনকারী, ক্রেতা, শিল্প সহযোগী এবং সরকারকে সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ১৪ জুলাই শেষ হতে চলা এই এক্সপো পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহত্তম পোশাক বাণিজ্য ইভেন্ট। এর উদ্দেশ্য হলো তৈরি পোশাক শিল্পকে নতুন বাজারের সুযোগ করে দেওয়া, ব্যবসাকে চাঙ্গা করা এবং পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা।

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন পূর্ব ভারতের তৈরি পোশাক শিল্পের একটি শীর্ষস্থানীয় সংগঠন। এই অ্যাসোসিয়েশনের ৫৭০ জনেরও বেশি সদস্য রয়েছে এবং এটি বছরে দু'বার গার্মেন্ট বায়ার্স অ্যান্ড সেলার্স মিটের আয়োজন করার পাশাপাশি শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সেমিনার ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande