সহিংসতা নয়, সংসদ থেকে রাস্তায়—সব জায়গায় ছাত্রদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরব : প্রিয়া সরোজ
নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই (হি.স.) : ঘৃণা বা সহিংসতার জবাব ঘৃণা কিংবা সহিংসতা দিয়ে নয়, গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলনের মাধ্যমেই দিতে হবে। সংসদ থেকে রাস্তায়—সব জায়গায় ছাত্রদের অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তোলা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ প্রিয়া সরো
সহিংসতা নয়, সংসদ থেকে রাজপথ—সব জায়গাতেই আওয়াজ তুলব: প্রিয়া সরোজ


নয়াদিল্লি, ১৪ জুলাই (হি.স.) : ঘৃণা বা সহিংসতার জবাব ঘৃণা কিংবা সহিংসতা দিয়ে নয়, গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলনের মাধ্যমেই দিতে হবে। সংসদ থেকে রাস্তায়—সব জায়গায় ছাত্রদের অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তোলা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ প্রিয়া সরোজ।

মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র ডাকা আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ যদি বারবার হতাশ হয়ে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে দেশ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের ঘৃণা নয়, ক্ষোভ প্রকাশ করতে হবে। সহিংসতার পথ নয়, সংসদ থেকে রাস্তায়—সব জায়গায় গণতান্ত্রিকভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, সংসদের ভিতরে ও বাইরে ছাত্রদের অধিকারের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা এদিন দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে সরকারের সামনে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ আইন প্রণয়ন করতে হবে। সংগঠিত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করতে হবে। পাশাপাশি দায়ী সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য একটি স্বাধীন 'ছাত্র লোকপাল' গঠনেরও দাবি জানানো হয়।

ছাত্রদের দাবি, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন কোনও সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে ১৪ দিনের মধ্যে সংসদে মৌখিক বিবৃতি দিতে হবে। অধিবেশন না থাকলে লিখিত বিবৃতি ও সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের অবস্থান জানাতে হবে।

আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তদন্ত শুরু করতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে দোষীদের নাম প্রকাশ করবে এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাঁদের আরও দাবি, বর্তমান ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র পরিবর্তে একটি স্বাধীন ন্যাশনাল টেস্টিং কমিশন গঠন করতে হবে। কর্মী নির্বাচন কমিশনের (এসএসসি) ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষার ক্যালেন্ডার প্রকাশ এবং বিজ্ঞপ্তি থেকে নিয়োগ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এক বছরের মধ্যে শেষ করারও দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে পরীক্ষার্থীদের ফি ফেরত, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ, নিজ নিজ রাজ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থা, বেসরকারি মেডিক্যাল ও পেশাদারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ আসনে সরকারি কলেজের সমান ফি নির্ধারণ, কোচিং সেন্টারগুলিতে মনোবিদ নিয়োগ এবং পরীক্ষার চাপ বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য 'ন্যাশনাল অ্যাসপির্যান্ট ওয়েলফেয়ার ফান্ড' গঠনের দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরে ঘটে যাওয়া সমস্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থী এবং দোষীদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং সংসদে শিক্ষাবিষয়ক পৃথক স্থায়ী কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়।

আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ জানান, গত ৯ ও ১০ জুলাই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁদের দলীয় পতাকা বা ব্যানার ছাড়াই যন্তর-মন্তরে এসে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিজেপির একটি প্রতিনিধিদলকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আবেদনও জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী ২০ জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য চালু করা মিসড কল নম্বরে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ সাড়া দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে ওই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন শিক্ষা-সংক্রান্ত সমস্যা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি-র নেতৃত্বে যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চলছে। বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। একই মঞ্চে টানা ১৭ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande