পুনর্বিকশিত রেলস্টেশনগুলি স্থানীয় জনগণের জন্য বয়ে এনেছে উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা, দাবি এনএফ রেল কৰ্তৃপক্ষের
গুয়াহাটি, ১৫ জুলাই (হি.স.) : ''অমৃত ভারত স্টেশন যোজনা''-র অধীনে অসমের মাজবাট এবং পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি রোড ও হলদিবাড়ি রেলওয়ে স্টেশনের পুনর্বিকাশ ও উন্নয়নের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য সুবিধা, গর্ব ও অগ্রগতির এক নতুন যুগের সূ
পুনর্বিকশিত মাজবাট, হলদিবাড়ি রেলওয়ে স্টেশন


গুয়াহাটি, ১৫ জুলাই (হি.স.) : 'অমৃত ভারত স্টেশন যোজনা'-র অধীনে অসমের মাজবাট এবং পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি রোড ও হলদিবাড়ি রেলওয়ে স্টেশনের পুনর্বিকাশ ও উন্নয়নের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য সুবিধা, গর্ব ও অগ্রগতির এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী, ব্যবসায়ী এবং নিত্যযাত্রীরা তাঁদের সংশ্লিষ্ট এলাকার স্টেশনের রূপান্তরে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘকাল ধরে এই স্টেশনগুলি আশপাশের এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হিসেবে কাজ করে আসছে। আধুনিকীকৃত এই স্টেশনগুলি অগ্রগতির প্রতীক। এগুলো প্রতিটি এলাকার অনন্য সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রেখে রেলওয়ের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন, দাবি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের।

আজ বুধবার উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এক প্রেস বার্তায় বলেছ্নে, পুনর্বিকাশের আগে এই স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের প্রায়ই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। এর কারণ ছিল সীমিত অপেক্ষাগার, যাত্রীদের জন্য অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা, চলাচলের জন্য অপর্যাপ্ত জায়গা এবং ক্রমবর্ধমান রেল ব্যবহারকারীদের অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো। পুনর্বিকাশের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এ সব প্রতিবন্ধকতাগুলি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে। এর জন্য যাত্রীদের সুবিধার্থে উন্নত স্টেশন ভবন, বড় ওয়েটিং হল, উন্নত প্ল্যাটফর্ম, প্রশস্ত চলাচলের জায়গা, আধুনিক শৌচাগার, ভালো আলোর ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক যাত্রী তথ্য ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধী-বান্ধব সুবিধা, সুন্দর ভূদৃশ্য নির্মাণ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। রূপান্তরিত স্টেশনগুলি এখন আরও সুরক্ষিত, আরামদায়ক ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রদান করছে, যা হাজার হাজার যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত করেছে।

প্রেস বার্তায় আশা ব্যক্ত করে কপিঞ্জল কিশোর শর্মা বলেন, পুনর্বিকশিত স্টেশনগুলি পর্যটনকে উৎসাহিত করে, আশপাশ এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করে, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করে এবং আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। স্টেশনের উন্নত পরিকাঠামো এই শহরগুলির সামগ্রিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে তুলেছে। এতে অধিক জনসমাগম ঘটাচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যের প্রসার ঘটাচ্ছে। মাজবাট স্টেশনের এই রূপান্তরে সন্তোষ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা জনৈক বিশাল দাস ও জলি দে বলেন, স্টেশনে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে যাত্রীরা এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও অনেক বেশি আরামদায়ক পরিবেশ পাচ্ছেন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে প্ৰাপ্ত ব্যাপক প্রশংসা এই রূপান্তরমূলক প্রকল্পগুলির ইতিবাচক প্রভাবকে তুলে ধরে। এটি আধুনিক, সর্বজনীন ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী রেলওয়ে স্টেশন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করে, যে সব স্টেশন কেবল যাত্রীদের সুবিধাই বাড়ায় না, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও অর্থবহ অবদান রাখে।

হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস




 

 rajesh pande