
হুগলি , ১৫ জুলাই (হি.স.) : হুগলি জেলার বহুচর্চিত সাত বছর পুরনো একটি খুনের মামলায় অভিযুক্তকে বুধবার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিল চুঁচুড়ার জেলা আদালত। এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ্যে চলে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবেশীকে খুন করার অভিযোগে অভিযুক্ত অজয় মণ্ডলকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ১১ জুলাই চুঁচুড়ার ঝিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা অতনু সরকার এবং তাঁর পরিচিত সুরজিৎ মাল-এর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন দু'জনেই। অতনু সরকারকে কলকাতার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেদিনই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান সুরজিৎ মাল।
তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত অজয় মণ্ডলের সঙ্গে এক বিবাহিত মহিলার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অতনু সরকার এবং সুরজিৎ মাল ওই সম্পর্কের কথা মহিলার স্বামীকে জানিয়ে দেন। সেই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েই অজয় মণ্ডল তাঁদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
মামলার শুনানির সময় মোট ১৯ জন সাক্ষীর বয়ান এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়। প্রধান সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে সরকারি আইনজীবী দেবেন্দ্র তিওয়ারি মামলাটি পরিচালনা করেন।
মঙ্গলবার চুঁচুড়া আদালতের প্রথম জেলা ও দায়রা বিচারক রিন্টু সূর অভিযুক্ত অজয় মণ্ডলকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এরপর বুধবার আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা নিহত অতনু সরকারের পরিবারের কাছে আদালতের এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA