
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৯ জুলাই (হি.স.) : ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে বাংলাদেশি মহিলাকে এবং তাঁকে আশ্রয় ও সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় যুবককে গ্রেফতার করেছে ধর্মনগর থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধর্মনগর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ইমিগ্রেশন আইন এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের একাধিক ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশি মহিলার নাম রূপালী বেগম (২৯) (কাল্পনিক নাম)। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের নরসিংদি জেলায়। অপরদিকে, তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমার পশ্চিম চন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (২৩)-কে।
পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পশ্চিম চন্দ্রপুরে আব্দুল হান্নানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই রূপালী বেগম এবং আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রূপালী বেগম দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
তদন্ত চলাকালীন রূপালী বেগমের ব্যবহৃত আধার কার্ডে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর নথিপত্র যাচাই করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই ভারতে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ। এই প্রেক্ষিতে অবৈধভাবে ভারতে বসবাস এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
একই সঙ্গে, অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিককে আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
ধর্মনগর থানার অফিসার-ইন-চার্জ মিনা দেববর্মা জানান, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন আইন ও ফরেনার্স অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার দুই অভিযুক্তকে ধর্মনগর আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভুয়ো আধার কার্ড বা অন্যান্য পরিচয়পত্র তৈরির বা সংগ্রহের পিছনে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ