
শ্রীভূমি (অসম), ১৯ জুলাই (হি.স.) : কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের উচ্চাভিলাষী ‘জলজীবন মিশন’ প্রকল্পের বাস্তব চিত্র নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে শ্রীভূমির লাতু-সজপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানীয় জল প্রকল্পগুলির অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষ। এই সংকটের দ্রুত সমাধান চেয়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি, পার্বত্য অঞ্চল ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের হাতে স্মারকপত্র তুলে দিয়েছেন লাতু-সজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী স্নিগ্ধা দাস।
আগামীকাল সোমবার শ্রীভূমি জেলাশাসকের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকের প্রাক্কালে আজ রবিবার জেলা বিজেপি কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সভানেত্রী স্নিগ্ধা। সেখানেই তিনি লাতু-সজপুরের ভয়াবহ পানীয় জল সংকটের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান। ফলে মন্ত্রীর জেলা সফরের আগেই লাতু-সজপুরের জল সংকট নতুন করে প্রশাসনিক গুরুত্ব পেয়েছে।
স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মালেগড় উন্নয়ন খণ্ডের অধীন লাতু-সজপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জলজীবন মিশনের অধীনে মোট নয়টি পানীয় জল প্রকল্প নির্মাণ করা হলেও তার মধ্যে আটটিই দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ অচল। ফলে সজপুর, মাইজগ্রাম, লাতু, লাতু-দাসগ্রাম, লাতুচক সহ একাধিক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পরিস্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে বহু পরিবার এখনও টিউবওয়েল, কূপ ও অন্যান্য অপরিস্রুত জলাধারের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে দূষিত জলের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সভানেত্রী স্নিগ্ধা দাস অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্প দীর্ঘদিন অচল থাকায় সরকারি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি জানান, অচল প্রকল্পগুলির বিষয়ে একাধিকবার জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ও লিখিতভাবে অবহিত করা হলেও আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ বাড়ছে গ্রামবাসীর।
স্মারকপত্রে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল গঠন করে অচল প্রকল্পগুলির সরেজমিন পরিদর্শন, দীর্ঘদিন জল সরবরাহ বন্ধ থাকার প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং দ্রুত মেরামত ও পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সভানেত্রী স্নিগ্ধা দাস বলেন, জলজীবন মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারের ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নয়টির মধ্যে আটটি প্রকল্প অচল থাকায় হাজার হাজার মানুষ সেই মৌলিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রকল্পগুলি পুনরায় চালু হলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে, বলেন তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস