নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে উত্তেজনা, সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার ১৯ জন
বাঁকুড়া, ১৯ জুলাই (হি.স.): সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছতে না পারায় এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি অগ্নিগর্
নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে উত্তেজনা, সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার ১৯ জন


বাঁকুড়া, ১৯ জুলাই (হি.স.): সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছতে না পারায় এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাথর ছোড়াছুড়ি এবং সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় তিন মহিলা-সহ মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার ধৃতদের বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭ জন অভিযুক্তকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে এবং দু'জনকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজগ্রামের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে টোটোয় করে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজে আনা হচ্ছিল। পথে তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয়। অভিযোগ, হাসপাতালের পিছনের দু'টি রাস্তা বন্ধ থাকায় টোটোটি সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছতে পারেনি। এই সময় মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তিনি মাথা ঘুরে টোটো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হলেও নবজাতককে বাঁচানো যায়নি।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের দু'টি রাস্তা খোলা থাকলে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হতো এবং নবজাতকের প্রাণ রক্ষা করা যেত। এই অভিযোগেই এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন।

বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়ে হামলা চালায় এবং হাসপাতাল চত্বরে লাগানো একাধিক সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। ঘটনায় পাঁচজন পুলিশকর্মী আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন পিছনের রাস্তাগুলি বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে ওই রাস্তাগুলি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ হয়ে ওঠায় সেগুলি পুনরায় খোলার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

বর্তমানে এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঘটনায় জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি পদক্ষেপের জন্য তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande