বাড়ি বিক্রির পাওনা টাকা ঘিরে যুবকের রহস্যমৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের
আগরতলা, ১৯ জুলাই (হি.স.) : আমতলি থানাধীন দারোগাবাড়ি এলাকায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিবারের সদস্
মৃতদেহ উদ্ধার


আগরতলা, ১৯ জুলাই (হি.স.) : আমতলি থানাধীন দারোগাবাড়ি এলাকায় যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। যদিও পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।

মৃত যুবকের নাম রাহুল চক্রবর্তী (৩০)। তিনি আমতলি থানার অধীন দারোগাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মা-বাবার মৃত্যুর পর তিনি নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের একটি জঙ্গল থেকে রাহুলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

পরিবারের অভিযোগ, কিছুদিন আগে রাহুল তাঁর বাড়ির একটি অংশ বিক্রি করেছিলেন। তবে সম্পূর্ণ মূল্য না পেয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতা পক্ষের কাছে বকেয়া টাকা দাবি করছিলেন। অভিযোগ, বারবার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছিল না। সম্প্রতি এই পাওনা টাকা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।

ঘটনার পর তদন্তে উঠে এসেছে আরও কয়েকটি রহস্যজনক তথ্য। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাহুলের ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় ছিল। ঘর থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র-সহ একটি ফাইল এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন গায়েব। অথচ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরের জঙ্গলে, যেখানে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়, সেখানেই পড়ে ছিল তাঁর আধার কার্ড।

পরিবারের বক্তব্য, রাহুল নিজের বাড়ি থাকতে দূরের জঙ্গলে গিয়ে আত্মহত্যা করবেন—এমনটা তাঁরা কোনওভাবেই বিশ্বাস করেন না। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং বাড়ি বিক্রির টাকা সংক্রান্ত বিরোধই এই ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।

মৃতের আত্মীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও তুলেছেন তাঁরা।

এদিকে, আমতলি থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande