
চণ্ডীগড়, ২৮ জুলাই (হি.স.): ভারী বৃষ্টির মধ্যে পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক পিএইচডি গবেষকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে সামিল হয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন পড়ুয়ারা।
মঙ্গলবার সকালে সেক্টর-২৫-এর দক্ষিণ ক্যাম্পাসে জল জমে থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় হরিয়ানার রেওয়ারি জেলার বাসিন্দা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের পিএইচডি গবেষক ২৭ বছর বয়সি জ্যোতির। তিনি গার্লস হস্টেল নম্বর-১০ থেকে বিভাগে যাওয়ার পথে জল এড়াতে বিকল্প কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময়ই তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসেন। প্রাথমিকভাবে অনুমান, কাছাকাছি থাকা একটি বৈদ্যুতিক জংশন বক্স থেকে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। বৈদ্যুতিক জংশন বক্স, সংলগ্ন তার এবং জল জমে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ নিরাপত্তা এবং নিকাশি ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে এই মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়ে তাঁরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অব্যবস্থার অভিযোগ তোলেন এবং উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।
পঞ্জাব ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস স্টুডেন্টস কাউন্সিলের নেতা গৌরববীর সোহাল বলেন, “একজন ছাত্রীর জীবন নিয়ে দরকষাকষি চলছে। আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ চাই। আগামী বছর যার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, সেই তরুণী আজ আর বেঁচে নেই। তাঁকে কি ফিরিয়ে আনা যাবে? প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের ছাত্ররা যখন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আদায় করতে পারে, তখন এই ঘটনার দায় এড়াতে উপাচার্য পারেন না। আজই তাঁর পদত্যাগ করতে হবে।”
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে জলনিকাশি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে উন্নত করার দাবি তুলেছেন পড়ুয়ারা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য