
কলকাতা, ২৯ জুলাই (হি.স.): পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৩৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে নদীয়ার ধুবুলিয়ায় শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়েছে। ধুবুলিয়ার 'কথাশিল্প' সংস্থার উদ্যোগে বুধবার অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হয় এই স্মরণানুষ্ঠান। ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই ৭০ বছর বয়সে প্রয়াত হন বাংলার নবজাগরণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৮২০ সালে।
সংগঠনের মহলাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের জীবন, কর্ম এবং মানবতাবাদী দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন পীতম ভট্টাচার্য। এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সমাজসংস্কারক, যুক্তিবাদী এবং নিরীশ্বরবাদী বিদ্যাসাগরের মানবিক সত্তা। তিনি বলেন, বিদ্যাসাগরের কাছে মানুষের কল্যাণই ছিল সর্বোচ্চ ধর্ম। আচার-অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় অনুশাসনের পরিবর্তে মানবসেবাকেই তিনি জীবনের মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। বিধবা বিবাহ প্রচলন, নারীশিক্ষার প্রসার এবং সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
অনুষ্ঠানে স্মরণ করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত মন্তব্যও— “আমাদের এই মানুষের সমাজে দেবতার চেয়েও দুর্লভ মানুষ ছিলেন বিদ্যাসাগর।” Discussions-এর পাশাপাশি সমকালীন কবিদের বিদ্যাসাগর-নিবেদিত কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপস্থিত সকলেই বিদ্যাসাগরের কালজয়ী আদর্শকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত