
আরামবাগ, ২৯ জুলাই (হি.স.): তৃণমূল জমানায় শিক্ষক নিয়োগে চরম ভাটা। শিক্ষক সংকটে শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেল আরামবাগ মহকুমার ৮টি জুনিয়র হাইস্কুল। ফলে গ্রামে স্কুলের ভবন থাকলেও সেখানে আর পড়াশোনা হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের দূরের স্কুলে পড়তে যেতে হচ্ছে, যার ফলে বহু পরিবারকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
আরামবাগের চুনাইট জুনিয়র হাইস্কুল, নারায়ণপুর জুনিয়র হাইস্কুল, গোঘাটের পাণ্ডুগ্রাম বেনেপুকুর শিবতলা জুনিয়র হাইস্কুল, খানাকুলের শশাপোতা হরিজন নিঃ বুঃ বিদ্যালয়, বামনখানা বিবেকানন্দ জুনিয়র হাইস্কুল, জগৎপুর জুনিয়র গার্লস হাইস্কুল, রাংতাখালি জুনিয়র হাইস্কুল এবং মাদারিচক জুনিয়র হাইস্কুল—মহকুমার মোট এই আটটি জুনিয়র হাইস্কুলে এই মুহূর্তে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্যতে নেমে আসায় স্কুলের গেটে তালা ঝুলছে। আরও বেশকিছু স্কুলও বর্তমানে ধুঁকছে।
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির কারণেই স্কুলগুলির আজ এই হাল। গ্রামে স্কুল থাকতেও ছেলেমেয়েদের বাধ্য হয়ে দূরের স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। গ্রামের স্কুল চালু থাকলে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হতো। এদিকে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর ফের নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বৈদ্যনাথ রায় বলেন, আমাদের আশা, দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ হলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই স্কুলগুলি আবার চালু হবে এবং গ্রামের পড়ুয়ারা নিজেদের এলাকাতেই শিক্ষার সুযোগ ফিরে পাবে।
এ বিষয়ে বুধবার আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, বিগত সরকারের আমলে কাটমানি ও চরম দুর্নীতির কারণে কেবল এই স্কুলগুলিই নয়, আরও বহু স্কুল বন্ধ হওয়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। আরামবাগ বিধানসভায় দুটি এবং খানাকুল ও গোঘাট বিধানসভায় ছয়টি জুনিয়র হাইস্কুল মিলিয়ে মোট আটটি বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিগত সরকার যেভাবে শিক্ষা খাতে দুর্নীতি করেছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে ছোট ছোট বাচ্চাদের।
তিনি আরও যোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদের বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি ইতিমধ্যেই নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা করেছেন। আমাদের সরকার নতুন করে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করবে। পাশাপাশি আরামবাগ মহকুমায় শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হওয়া সমস্ত স্কুল দ্রুত পুনরায় চালু করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA