
বাঁকুড়া, ২৯ জুলাই (হি.স.) : এক নাবালিকার মৃত্যুর তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং মৃতার পরিবারকে পাত্রসায়র থানায় অভিযোগ জানাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এবার গ্রেফতার করা হল তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত দত্ত ওরফে গোপেকে। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে একই অভিযোগে তাঁর স্ত্রীও পুলিশি হেফাজতে যান।
উল্লেখ্য, সুব্রতবাবু বিগত বিধানসভা নির্বাচনে ওন্দা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনায় নাম জড়ানোর পর জনরোষ ও পুলিশের ভয়ে দীর্ঘদিন গাঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে পাত্রসায়রের রাস্তা থেকে সুব্রতবাবুকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বুধবার তাঁকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩০ মার্চ পাত্রসায়রে এক নাবালিকার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সেই সময় অভিযোগের আঙুল ওঠে স্থানীয় স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা রোহিত মল্লিক ও তাঁর মা রুম্পা মল্লিকের বিরুদ্ধে। কিন্তু মৃত নাবালিকার পরিবার পাত্রসায়র থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে, সুব্রত দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাতে বাধা দেন বলে অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ময়নাতদন্ত না করিয়েই তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর মৃতার পরিবার পাত্রসায়র থানায় নতুন করে অভিযোগ জানালে পুলিশ প্রথমে মূল অভিযুক্ত রোহিত মল্লিক ও রুম্পা মল্লিককে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই উঠে আসে তৃণমূলের দাপুটে নেত্রী তথা পাত্রসায়র পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত মল্লিক এবং তাঁর স্বামী সুব্রত দত্তের নাম।
তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ আগেই পূরবীদেবীকে গ্রেফতার করেছিল। তবে সুব্রতবাবু এতদিন পলাতক ছিলেন। শেষপর্যন্ত মঙ্গলবার রাতে তাকেও জালে তোলে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট