নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই, রাজ্য বা আদালতের নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
কলকাতা, ২৯ জুলাই (হি.স.): ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা প্রমাণের যাবতীয় দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের, রাজ্য বা আদালতের নয়—এক তাৎপর্যপূর্ণ মামলায় এই স্পষ্ট রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি অজয় কুমা
কলকাতা হাইকোর্ট


কলকাতা, ২৯ জুলাই (হি.স.): ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা প্রমাণের যাবতীয় দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের, রাজ্য বা আদালতের নয়—এক তাৎপর্যপূর্ণ মামলায় এই স্পষ্ট রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ একটি বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ (হেবিয়াস কর্পাস) মামলার শুনানির সময় এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। মামলাটি দায়ের করেছিলেন সুমন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগ ছিল, গত ১৮ জুন তাঁর ভাইপোকে বাংলাদেশি সন্দেহে অবৈধভাবে আটক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

আবেদনকারীর তরফে আদালতে ভোটার কার্ড, পরিচয়পত্র, প্যান কার্ড, ব্যাংকের পাসবই, দাদুর আমলের জমির দলিলসহ পারিবারিক নানা নথি পেশ করে দাবি করা হয় যে আটক ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক। তবে আদালত স্পষ্ট জানায়, এই নথিগুলির কোনোটিই ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। ডিভিশন বেঞ্চ উল্লেখ করে, ভোটার পরিচয়পত্র কেবল ভোটার তালিকায় নাম থাকার প্রমাণ এবং অন্যান্য পরিচয়পত্রও নাগরিকত্বের আইনি স্বত্ব সিদ্ধ করে না।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং পুলিশি হেফাজতে তিনি নিজেই তা স্বীকার করেছেন। সরকারের দাবি, এর ভিডিও রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে। আইন অনুযায়ী তাঁকে ৬০ দিনের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্বের গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পেশ করার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

শুনানি চলাকালীন আদালত আবেদনকারীর পেশ করা নথিগুলির মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায়। বাবার নামে বৈসাদৃশ্য, মা-বাবার মৃত্যু ও শেষকৃত্য সংক্রান্ত প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া এবং আবেদনকারী যাঁর কাকা হওয়ার দাবি করছেন, সেই তথাকথিত ভাইপোর বয়স আবেদনকারীর নিজের বয়সের চেয়ে বেশি হওয়া নিয়েও আদালতের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

সমস্ত তথ্য ও নথি পর্যালোচনার পর হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে বহাল রাখে এবং জানায়, কোনো ব্যক্তিকে নিজের নাগরিকত্ব নিজেকেই প্রমাণ করতে হবে। যদি তিনি তা করতে ব্যর্থ হন, তবে আদালত বা রাজ্য তাঁর হয়ে এই দায়ভার বহন করবে না। আদালত তার এই রায়ে ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশী আইনের প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande