
আগরতলা, ২৯ জুলাই (হি.স.) : ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ–২০২৬-এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই বাস্তবে রূপ পেল শিল্প বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বুধবার গুরু পূর্ণিমার শুভক্ষণে বোধজংনগর শিল্পনগরীতে ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার ও পাওয়ার ট্রান্সফরমার নির্মাণ কারখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের (টিএসইসিএল) সহযোগিতায় ট্রান্স কোম্পানির উদ্যোগে স্থাপিত এই কারখানার উদ্বোধন করেন টিএসইসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশ্বজিৎ বসু।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ ও ৯ জুলাই হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ–২০২৬-এ রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম এবং ট্রান্স কোম্পানির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তিরই বাস্তবায়ন হিসেবে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে উৎপাদন ইউনিট চালু হওয়াকে শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিশ্বজিৎ বসু জানান, এতদিন রাজ্যের প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমারের জন্য বহিঃরাজ্যের উপর নির্ভর করতে হতো। নতুন এই কারখানা চালু হওয়ার ফলে এখন থেকে রাজ্যেই ডিস্ট্রিবিউশন ও পাওয়ার ট্রান্সফরমার উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎ পরিষেবার ক্ষেত্রে ত্রিপুরা আরও স্বনির্ভর হবে এবং দ্রুত পরিষেবা প্রদান করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়তা করবে এবং শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের শিল্পবান্ধব নীতির ফলেই এত অল্প সময়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, বিদ্যুৎ নিগমের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারদের বকেয়া বিল ও ধর্মঘট প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে টিএসইসিএল-এর এমডি জানান, কোম্পানির আর্থিক লেনদেনের কিছু প্রক্রিয়াগত কারণে বিল প্রদানে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্ত ঠিকাদারই তাঁদের প্রাপ্য অর্থ পর্যায়ক্রমে পেয়ে যাবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে এবং ঠিকাদারদের ঘোষিত ধর্মঘটও প্রত্যাহার করা হবে।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের সঙ্গে ১০০ জনেরও বেশি ঠিকাদার যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বিপরীতে প্রাপ্য বিল পরিশোধ করা হয়নি। ফলে তাঁরা চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ঠিকাদারদের দাবি, মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি। এই বকেয়া অর্থ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে তাঁরা আন্দোলন ও ধর্মঘটের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।
নতুন ট্রান্সফরমার নির্মাণ কারখানার সূচনার মাধ্যমে একদিকে যেমন ত্রিপুরার শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো, অন্যদিকে বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ