
ঝাড়গ্রাম, ২৯ জুলাই (হি.স.): গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জল সংরক্ষণ, বনসৃজন এবং হাতির উপদ্রব মোকাবিলায় ‘জি রাম জি’ (বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন–গ্রামীণ) প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বনদফতর ও গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে জি রাম জি প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, এক্সিকিউটিভ অফিসার-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর, মহকুমাশাসক অনিন্দিতা রায় চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলাশাসকগণ, ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ এবং বিনপুরের বিধায়ক ডা. প্রণত টুডু।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জি রাম জি প্রকল্পের আওতায় মোট ৩১৮ ধরনের কাজ করা সম্ভব। এর ফলে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে আরও বেশি কর্মদিবস তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। তবে গত কয়েক মাসে টানা বৃষ্টি-সহ বিভিন্ন কারণে একাধিক পঞ্চায়েতে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। এদিন মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো পরিস্থিতিতেই উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ রাখা যাবে না।
মন্ত্রী বলেন, বনদফতরের সঙ্গে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব এলাকায় হাতির নির্দিষ্ট চলাচলের পথের বাইরে গ্রামে বারবার হাতির হানা হচ্ছে, সেখানে গ্রামের সীমানা বরাবর পরিখা খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্ষাকালে সেই পরিখায় জল জমে থাকবে। এতে একদিকে যেমন জল সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে হাতির গ্রামে প্রবেশও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বনদফতরের সরবরাহ করা চারাগাছ এই প্রকল্পের মাধ্যমে রোপণ করা হবে। এর ফলে বনসৃজনের পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রশাসনের।
পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দুর্নীতি রোধে প্রশাসনিক পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানদের কাছ থেকে বিলে স্বাক্ষরের ক্ষমতা প্রত্যাহার করে সেই দায়িত্ব পঞ্চায়েত সচিবদের হাতে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ১০ শতাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যেসব পঞ্চায়েতে কাজের পরিমাণ নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে, সেখানে অডিট ও তদন্তও করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, মানুষের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার এটাই উপযুক্ত সময়। আগামী দু’বছর সাধারণ মানুষের স্বার্থে উন্নয়নমূলক কাজ করলে ভবিষ্যতে তারাই পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ হওয়া অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে সকলকে সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে। ঝাড়গ্রামকে একটি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা জেলা উল্লেখ করে তিনি উন্নয়নের গতি বাড়ানোর উপরও জোর দেন।
এদিন কর্মশালা শেষে ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো