বন্যার ১১ দিন, অসমে বিদ্যুৎহীন প্রায় ১৩ হাজার পরিবার, দ্রুত সংযোগ পুনরুদ্ধারে জোর রাজ্যের
গুয়াহাটি, ৩০ জুলাই (হি.স.) : ভয়াবহ বন্যার ১১ দিন চলছে, অসমের বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ১৩ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ড.
ভয়াবহ বন্যার কবলে অসম (ফাইল ফটো)


গুয়াহাটি, ৩০ জুলাই (হি.স.) : ভয়াবহ বন্যার ১১ দিন চলছে, অসমের বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ১৩ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, আপার আসামের বন্যা পরিস্থিতির ওপর সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে নজর রাখছে। যেসব এলাকায় পরিস্থিতি নিরাপদ বলে বিবেচিত হচ্ছে, সেখানে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা জানান, বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা আরও ৩০ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। বন্যার জল নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ট্রান্সফরমারগুলি পুনরায় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

অসম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর প্রস্তুতকৃত শিবসাগর ইলেকট্রিক্যাল সার্কেলের বন্যা পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী এখনও ১২,৭৫৬ জন গ্রাহক বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে গৌরীসাগর, শিবসাগর, নাজিরা, আমগুড়ি এবং ডেমো।

এর আগে গত ২৪ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রায় ৪০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যদিও সেই সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগের প্রায় ৭৫ শতাংশে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই ভোর থেকে নাগাল্যান্ড ও আপার আসামে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোত নেমে আসে। এতে তিনটি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার জল নেমে গেলেও আজ ৩০ জুলাই পর্যন্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। সরকারি হিসাব বলছে, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮-এ পৌঁছেছে, এখনও তিন লক্ষের বেশি মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত।

এদিকে, ভারতীয় আবহাওয়া দফতর আগামী তিন দিন অসম, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে প্রতিবেশী রাজ্য সংলগ্ন জেলাগুলিতে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande