বন্যার কবলে অসমের ৩০টি চা-বাগান, মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি : মন্ত্রী রামেশ্বর
গুয়াহাটি, ৩০ জুলাই (হি.স.) : অসমে চলমান ভয়াবহ বন্যায় রাজ্যের ৩০টি চা-বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি চা-বাগান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে, জানিয়েছেন অসমের মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি। আজ বৃহস্পতিবার অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যম
মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি (ফাইল ফটো)


গুয়াহাটি, ৩০ জুলাই (হি.স.) : অসমে চলমান ভয়াবহ বন্যায় রাজ্যের ৩০টি চা-বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি চা-বাগান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে, জানিয়েছেন অসমের মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি।

আজ বৃহস্পতিবার অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রূপান্তর ও উন্নয়ন, শ্রম কল্যাণ এবং চা-জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি জানান, চলতি বন্যায় এ পর্যন্ত রাজ্যে ৭৫ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় নিমজ্জিত এলাকাগুলিতে তালাশি অভিযান চালিয়ে যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মন্ত্রী তেলি।

মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি জানান, প্রতিবেশী রাজ্য নাগাল্যান্ড থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ও কাদা ভেসে এসেছে। এর ফলে কয়েকটি এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নীচে মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, লেবার কমিশনারের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের অন্তত ৩০টি চা-বাগানে বন্যার জল ঢুকেছে এবং এর মধ্যে ১১টি চা-বাগান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রামেশ্বর তেলি আরও জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে জোরকদমে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলছে। বন্যায় গৃহহারা মানুষের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যক সামগ্রীর যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে।

প্ৰাসঙ্গিক এক প্ৰশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, বন্যায় যাঁরা পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আগের ৪ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।

মন্ত্রী রামেশ্বর জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র খতিয়ে দেখতে নয়াদিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই অসমে পৌঁছেছে। দলটি রাজ্যের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের কাজ করছে।

বন্যাত্রাণে সহায়তার জন্য অসমের বিধায়করা তাঁদের এক মাসের বেতন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রামেশ্বর তেলি বলেন, ‘প্রত্যেক বিধায়ক বন্যাত্রাণ তহবিলে এক মাসের বেতন দান করছেন। তাই সকল বিধায়ককে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

মন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে উদারভাবে অনুদান দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, জয়গুরু সহ একাধিক ধর্মীয় সংগঠন দুই লক্ষ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দিয়েছে। এছাড়া বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande