
কোকরাঝাড় (অসম), ৩০ জুলাই (হি.স.) : শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সড়ক যোগাযোগ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ১,৫৮,৮৩১.৩২ লক্ষ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে ‘বড়োল্যান্ড টেরিটরিয়াল কাউন্সিল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি’ (বিটিসিএলএ)। আজ বৃহস্পতিবার পরিষদে বাজেটটি উপস্থাপন করেন অর্থ দফতরের দায়িত্বপ্ৰাপ্ত বিটিসি-প্রধান হাগ্রামা মহিলারি।
বাজেটটি ধ্বনীভোটে গৃহীত হয়। শাসকদলের সদস্যরা একে জনমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উন্নয়নমুখী বাজেট বলে দাবি করেন। তাঁদের দাবি, এই বাজেট বড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।
বাজেটের প্রধান বরাদ্দ :
বাজেটে কন্সোলিডেটেড এসওপিডি গ্রান্ট-এর অধীনে বিটিসির জন্য ৯০ হাজার লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া বড়োল্যান্ড চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২০ হাজার লক্ষ টাকা, কেন্দ্র-পৃষ্ঠপোষক প্রকল্প (সেন্ট্রালি স্পন্সর্ড স্কিম) বাস্তবায়নে বিশেষ সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার লক্ষ টাকা এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন অনুদান হিসেবে ৯,৭৫৭.২৫ লক্ষ টাকা রাখা হয়েছে।
এছাড়া প্রশাসনিক অনুদান হিসেবে ২,৫৩০.২২ লক্ষ টাকা, বিশেষ অনুদান হিসেবে ২,৭৯৪.৪৪ লক্ষ টাকা, শহিদদের পরিবারের জন্য এক্স-গ্রেশিয়া সহায়তায় ১,০০০ লক্ষ টাকা এবং চেন্নাইয়ে বিটিসি গেস্ট হাউস নির্মাণে ১,০০০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার :
বাজেট পেশ করে হাগ্রামা মহিলারি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি, সড়ক যোগাযোগ এবং জনপরিকাঠামো উন্নয়নেও বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, বডোফা সুপার-৫০ কর্মসূচিকে সম্প্রসারণ করে শতাধিক শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং এর নতুন নাম হবে ‘ইউএন ব্রহ্ম ফ্রি ইউপিএসসি, এপিএসসি অ্যান্ড জেইই কোচিং প্রোগ্রাম’।
এছাড়া মাধ্যমিক পরীক্ষায় ‘মডাৰ্ন ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ’ (এমআইএল) বিষয়ে শতভাগ নম্বরপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩ লক্ষ টাকা এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম ১০ জন কৃতীকে ৫ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।
কৃষি ও শিক্ষকদের নিয়ে ঘোষণা :
বিটিসি-প্রধান জানান, কৃষকদের আরও বেশি সহায়তা দিতে এবং কৃষিক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে একাধিক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষা বিষয়ক নির্বাহী সদস্য রবিরাম নার্জারি জানান, আগের ইউপিপিএল-নেতৃত্বাধীন পরিষদের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্ৰাপ্ত ৫৫৪ জন বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষক বর্তমান বিপিএফ-নেতৃত্বাধীন পরিষদেও বহাল থাকবেন। তাঁদের পারিশ্রমিক প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ইতিমধ্যেই রাখা হয়েছে এবং অর্থ বরাদ্দ পেলেই বেতন প্রদান করা হবে।
তিনি আরও জানান, ‘শহিদ সুজিত নার্জারি মেধা বৃত্তি প্রকল্প’-এর অধীনে উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম ১০ জন কৃতীকে ৫ লক্ষ টাকা এবং মাধ্যমিকে এমআইএল বিষয়ে পূর্ণ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৩ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রকল্পও অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় চিকিৎসক সংকট :
স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়ক নির্বাহী সদস্য দেরহাসাত বসুমতারি জানান, বর্তমানে বিটিসি অঞ্চলে প্রায় ১৫০ জন চিকিৎসক এবং ৪০০ জন প্যারামেডিক্যাল কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অসম সরকারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং স্বাধীনতা দিবসের পর বিটিসি অঞ্চলে ১৫০ জন জিএনএম নার্স নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
বসুমতারি আরও জানান, ভবিষ্যতে চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের নিয়োগের পর ব্যক্তিগত আবেদনের ভিত্তিতে ঘন ঘন বদলি করা হবে না। এর ফলে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে কর্মীসংখ্যার স্থায়িত্ব বজায় থাকবে।
উপজাতি আন্দোলনকারীদের স্বীকৃতির দাবি :
আলোচনায় এমসিএলএ ধনেশ্বর গয়ারি ১৯৮০-র দশকের শেষভাগে উপজাতি অধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী পিটিসিএ-র কর্মী এবং এবিএসইউ ভলান্টিয়ার ফোর্স-এর সদস্যদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
এর জবাবে হাগ্রামা মহিলারি জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যেই পরিষদে আলোচনা হয়েছে এবং তাঁদের আত্মত্যাগকে যথাযথ মর্যাদা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস