বারুইপুর এনকাউন্টার মামলায় কঠোর কলকাতা হাইকোর্ট, পুলিশের কাছে চাওয়া হলো হলফনামা
কলকাতা, ৩০ জুলাই (হি. স.): বারুইপুর এনকাউন্টার মামলায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। গভীর রাতে মূল অভিযুক্তকে কেন অকুস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণের (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং স
কলকাতা হাইকোর্ট


কলকাতা, ৩০ জুলাই (হি. স.): বারুইপুর এনকাউন্টার মামলায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। গভীর রাতে মূল অভিযুক্তকে কেন অকুস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণের (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে ঠিক কী কী ঘটেছিল, তা পুলিশকে হলফনামা দিয়ে স্পষ্ট জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই পুলিশকে তাদের হলফনামা পেশ করতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত বারুইপুরে এক কিশোরীকে গণধর্ষণ ও খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের কয়েক দিন পর প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে গভীর রাতে অকুস্থলে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় সে আচমকা এক পুলিশ কর্মীর অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় এবং পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে তার মৃত্যু হয়।

তবে এই এনকাউন্টারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন এক আইনজীবী। মামলাকারীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জেলা পুলিশকে গোটা ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, এনকাউন্টার নিয়ে পুলিশের পেশ করা বিবরণ অত্যন্ত সন্দেহজনক। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই রাতদুপুরে কেন অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, গোটা প্রক্রিয়ার কোনো ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও আদালতকে খতিয়ে দেখার আর্জি জানান।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সরকারি আইনজীবী আদালতকে জানান, অভিযুক্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার পরেই তাকে অকুস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে সে পুলিশের ওপর গুলি চালালে বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চলায়, যার ফলে প্রভাসের মৃত্যু হয়।

কলকাতা হাইকোর্ট বারুইপুরের পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিশদ হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে, এই এনকাউন্টারের তদন্তভার ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সিআইডি এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এতে যুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের বয়ানও নথিভুক্ত করেছে। তবে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার বাকি অভিযুক্তরা বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande