
শিলং, ৩০ জুলাই (হি.স.) : ২০২৬ সালের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন সংক্ষেপে এসআইআর) কর্মসূচির অধীনে মেঘালয়ে ভোটার তালিকার ঘরে ঘরে সমীক্ষা পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজ্যের ২৩,৪৯,৬৪৫ জন ভোটারের প্রত্যেকের কাছে এনুমারেশন ফর্ম (গণনাপত্র) পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। গোটা পর্বের সমস্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে, জানিয়েছে মেঘালয় রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর।
সিইও-র দফতর জানিয়েছে, একটি স্বচ্ছ, নির্ভুল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে এই সমীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ডিজিটাল তথ্য অনুযায়ী, ৭,৭৫,৩৩৭ জন ভোটার (৩৩ শতাংশ)-কে ‘সেল্ফ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের তথ্য সরাসরি ২০০৫ সালের এসআইআর-এর তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। অন্যদিকে ১১,৬৯,৬৭০ জন ভোটার (৪৯.৭৮ শতাংশ)-কে ‘প্ৰগেনি’ (সন্তানসন্ততি) শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এই শ্ৰেণিতে তাঁদের নাম বাবা-মা বা দাদু-দিদিমা/ঠাকুরদা-ঠাকুরমার ভোটার নথির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ২,২৪,২৩৪ জন ভোটার (৯.৫৪ শতাংশ)-এর তথ্য ২০০৫ সালের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। তাঁদের ‘নো ম্যাপিং’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। এ সমস্ত ক্ষেত্রে ৫ আগস্ট থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির পর্যায়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। এর পর তাঁদের ভোটার মর্যাদা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সমীক্ষায় আরও ১,৮০,৪০৪ জন ভোটার (৭.৬৮ শতাংশ)-কে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও দ্বৈত (অ্যাবসেন্ট, শিফ্টেড, ডিসিজড অ্যান্ড ডুপ্লিক্যাট সংক্ষেপে এএসডিডি) শ্রেণিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮১,৪৯০ জন মৃত, ৪৫,০১৩ জনের গণনাপত্র জমা পড়েনি, ৪২,৫৩২ জন স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন, ৪,৬৬৮ জন সমীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকার করেছেন এবং ৬,৭০১টি নাম দ্বৈত নথিভুক্ত বলে শনাক্ত হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের এই কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য স্বীকৃত জাতীয় ও রাজ্যস্তরের রাজনৈতিক দলগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সিইও-র দফতর। বিশেষভাবে বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ)-দের ভূমিকার প্রশংসা করে বলা হয়েছে, তাঁদের সহযোগিতায় সমগ্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জনঅংশগ্রহণ এবং সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়েছে।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ ফর্ম বিতরণ ও তথ্য ডিজিটালকরণের জন্য জেলা নির্বাচন আধিকারিক, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক, বুথ-স্তরের আধিকারিক (বুথ লেভেল এজেন্ট), ডেটা এন্ট্রি কর্মী এবং অন্যান্য নির্বাচনকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।
দরবার শ্নং, নকমা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতা, নাগরিক সমাজের সংগঠন, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিকদেরও এই কর্মসূচিতে সক্রিয় সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সিইও-র দফতর।
সমীক্ষা পর্ব শেষ হওয়ায় এখন নির্বাচন দফতর ‘নো ম্যাপিং’ এবং অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও দ্বৈত শ্রেণির ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৫ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সিইও-র দফতর জানিয়েছে, একটি স্বচ্ছ, নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শক্তিশালী ভোটার তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে মেঘালয়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করাই তাদের লক্ষ্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস