
কলকাতা, ৩০ জুলাই (হি. স.): আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে কতদূর অগ্রগতি হয়েছে, তা জানিয়ে বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) এই সংক্রান্ত নানা দিক খতিয়ে দেখছে।
এদিনের শুনানিতে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। পরিবার প্রথম প্রশ্ন তোলে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের গ্রেফতারি এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর তড়িঘড়ি আরজি কর হাসপাতাল থেকে দেহ উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি মহাশ্মশানে নিয়ে গিয়ে অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন করা হয়েছিল।
পরিবারের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ লোপাট করা হয়ে থাকতে পারে। নির্মল ঘোষ এবং আরও দুজনের বিরুদ্ধে পরিবার ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতের ঘটনার ঠিক আগে নিহতের সঙ্গে যে সমস্ত বন্ধুরা নৈশভোজ করেছিলেন এবং নিহতের সঙ্গে শেষ দফায় যাঁর যাঁর কথা হয়েছিল, তাঁদেরও হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে পরিবার। নিহতের পরিজনদের বিশ্বাস, তাঁদের থেকে তদন্তের বহু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে।
তৃতীয়ত, প্রাথমিক তদন্ত চলাকালীন ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) বেশ কয়েকজন কর্মীর ভূমিকা নিয়েও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। তথ্য-প্রমাণ বিকৃতি বা ধ্বংস করার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কতদূর এগোল, তা স্পষ্ট করার আর্জি জানিয়েছে পরিবার। প্রসঙ্গত, এই ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ২০২৬ সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই-কে একটি তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল।
চতুর্থত, নিহতের মা-এর বক্তব্যও আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের আইনজীবী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর. জি. কর হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকে ওই তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তের পর সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীকালে আদালত তাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে এই জঘন্য অপরাধের পেছনে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যুক্ত থাকতে পারে বলে পরিবার শুরু থেকেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে।
তথ্য-প্রমাণ লোপাট ও তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে সিবিআইয়ের তদন্তের ধীরগতি নিয়ে গত জুন মাসেই কলকাতা হাইকোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল এবং তদন্তকে চূড়ান্ত পরিণতিতে নিয়ে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছিল।
শিয়ালদহ আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি