
হাফলং (অসম), ৩০ জুলাই (হি.স.) : লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আর কতদিন লাগবে, তা নিয়ে ক্রমশ অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর লাইনের নীচে প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে মাটি ধসে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর) কর্তৃপক্ষ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে গত দু-দিন ধরে রাতের ভারী বর্ষণ সেই কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক রেল পরিষেবা চালুর সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্যাপক পরিমাণে মাটি ও পাথর ফেলে ট্র্যাকের ভিত্তি শক্তিশালী করার কাজ চলছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করে দিন-রাত এক করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হলেও পাহাড়ি এলাকার প্রতিকূল আবহাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাতভর ভারী বৃষ্টির দরুন সদ্য ভরাট করা মাটি বারবার নরম হয়ে যাচ্ছে, ফলে কাজের গতি মন্থর হয়ে পড়ছে এবং প্রকৌশলীদের অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে মেরামতির কাজ চালাতে হচ্ছে।
বর্তমানে নিরাপত্তার স্বার্থে নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। সীমিত পরিসরে বিকল্প ৩ নম্বর লাইনের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা করা হলেও বহু যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল, আংশিক বাতিল কিংবা পুনঃনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করছে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বরাক উপত্যকা ও অন্যান্য এলাকার রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রেল পরিষেবায় দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন বহু যাত্রীকে স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার অনেকেই নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে সমস্যায় পড়ছেন। পর্যটক, চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারী মানুষের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বিকল্প হিসেবে সড়কপথে যাতায়াতের চেষ্টা করলেও পাহাড়ি রাস্তায় অতিরিক্ত চাপ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেখানেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মেরামতির কাজ করা হচ্ছে। ট্র্যাকের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে না। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত কাজ শেষ করে রেল পরিষেবা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি রেলপথে কবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল শুরু হবে, সেই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এখনও দিতে পারছে না রেল কর্তৃপক্ষ। ফলে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠা দিন দিন বাড়ছে।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের চিফ অপারেটিং ম্যানেজার (পিসিওএম/এমএলজি) আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১-টা ৪০ মিনিটে হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডে চলমান রেলপথ মেরামতের কাজের স্থলে পৌঁছেছেন। তিনি লামডিং বিভাগের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) সমীর লোহানি এবং সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রেলপথ মেরামতির কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেছেন। পরিদর্শনের সময় চলমান মেরামত কার্যক্রম দ্রুত ও নিরাপদে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন চিফ অপারিটিং ম্যানেজার।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব