
কলকাতা, ৩০ জুলাই (হি.স.): সল্টলেকবাসীর জন্য বড় স্বস্তির খবর। আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই সল্টলেকে চালু হতে চলেছে প্রথম ২৪ ঘণ্টার সিএনজি স্টেশন। একই সঙ্গে আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সল্টলেকের সেক্টর-১, ২ এবং ৩-এর প্রায় ২৬ হাজার পরিবারে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জোরকদমে কাজ চালাচ্ছে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড ।
সংস্থা সূত্রে খবর, ইন্দিরা ভবন (বর্তমান নজরুল ভবন) ও সেচ ভবনের মধ্যবর্তী এফএফ ব্লক এলাকায় সিএনজি স্টেশনটি নির্মাণের কাজ এখন একদম শেষ পর্যায়ে। এটি চালু হলে সল্টলেক ও সংলগ্ন এলাকার সিএনজি চালিত অটো, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বাস চালকদের জ্বালানির জন্য আর দূরে যেতে হবে না।
বর্তমানে রাজারহাট-নিউ টাউন, কসবা, গড়িয়া, সিঁথির মোড়, কাঁকুড়গাছি এবং কল্যাণীতে ২৪ ঘণ্টা সিএনজি পরিষেবা পাওয়া যায়। নতুন এই স্টেশনটি চালু হলে স্থানীয় যানবাহন চালকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে।
অন্যদিকে, সল্টলেকের প্রতিটি ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। বিধাননগর পুরনিগমের ২৯ থেকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড অর্থাৎ সেক্টর-১, ২ ও ৩-এর বাসিন্দারা পর্যায়ক্রমে এই পিএনজি সংযোগ পাবেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ পরিবারকে এই পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম মুখোপাধ্যায় জানান, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সল্টলেকের প্রতিটি বাড়িতে পিএনজি পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাজারহাট, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম এবং রাজপুর-সোনারপুর এলাকার প্রায় পাঁচ লক্ষ ঘরেও এই সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে।
তবে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে কিছু প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় এয়ারপোর্ট ১ নম্বর গেটের কাছে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এখনও পাইপলাইন বসানো সম্ভব হয়নি। অনুমতি মিললেই মূল পাইপলাইনের কাজ শেষ করে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, নদীয়া জেলার কল্যাণীতে ইতিমধ্যেই সফলভাবে পিএনজি পরিষেবা শুরু হয়ে গিয়েছে, যেখানে ১০০টিরও বেশি পরিবার নিয়মিত এই পরিষেবা ব্যবহার করছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই এবার সল্টলেকেও দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি