
আগরতলা, ৩০ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরায় বাল্যবিবাহ রোধে রাজ্য সরকারের উদ্যোগ সন্তোষজনক এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকার।
তিনি জানান, দেশের প্রতিটি নারী যাতে নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার পান, সেই লক্ষ্য নিয়েই জাতীয় মহিলা কমিশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিন দিনের রাজ্য সফরে এসে বৃহস্পতিবার আগরতলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি সীমান্ত এলাকায় (বিএসএফ)-এর উদ্যোগে নারী পাচার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নারী ও শিশু সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
পরে আগরতলায় রাজ্য অতিথিশালায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিজয়া রাহাতকার বলেন, ত্রিপুরায় নারীদের নিরাপত্তা, ক্ষমতায়ন এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে রাজ্য সরকার ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং সামগ্রিক ভবিষ্যতের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এই কুপ্রথা নির্মূলে সরকার, প্রশাসন এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে গোটা দেশকে বাল্যবিবাহমুক্ত করা। সেই লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি ত্রিপুরার উদ্যোগও প্রশংসার দাবি রাখে। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, বুধবার গোমতী জেলা সফরকালে তিনি মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরে পূজা অর্চনা করেন। এরপর উদয়পুরে মহিলা পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, নারীর নেতৃত্ব, স্বনির্ভরতা এবং স্থানীয় প্রশাসনে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন।
এছাড়াও গোমতী জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে নারী সুরক্ষা, মহিলা কল্যাণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন। তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও নারী ও শিশু সুরক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ