
কলকাতা, ৩১ জুলাই (হি. স.) : মহানগরের যান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও সুগম ও নিরাপদ করে তুলতে দুটি বড় পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পে কাজ শুরুর ইঙ্গিত দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ইএম বাইপাসে নিউ টাউন-রাজারহাটের সঙ্গে উন্নত যোগাযোগের জন্য নতুন একটি ফ্লাইওভার এবং রুবি ও ডালহৌসি মোড়ে স্কাইওয়াক নির্মাণ। শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই তথ্য জানান।
এই বৈঠকে কলকাতা পুলিশ, হাওড়া সিটি পুলিশ, বিধাননগর সিটি পুলিশ এবং কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগর পুরনিগমের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, শহরের যানজটের চাপ কমাতে এবং পথচারীদের সুরক্ষা বাড়াতে একাধিক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, রুবি ও ডালহৌসিতে স্কাইওয়াক তৈরির পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মা ফ্লাইওভারের আগে ইএম বাইপাসে একটি নতুন ফ্লাইওভার তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে কলকাতা এবং নিউ টাউন-রাজারহাটের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করা যায়।
রুবি মোড় ইএম বাইপাসের অন্যতম ব্যস্ততম যান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এর আগে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) এখানে প্রায় ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৃত্তাকার স্কাইওয়াকের প্রস্তাব তৈরি করেছিল, যা হেমন্ত মুখোপাধ্যায় মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। রাস্তা পারাপার না করেই যাতে যাত্রী ও পথচারীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সেটাই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
বৈঠকে ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন মোড় থেকে মহিষবাথান পর্যন্ত প্রস্তাবিত ফ্লাইওভার প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। প্রায় ৯০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের অধীনে প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের একটি উড়ালপুল তৈরির প্রস্তাব ছিল। পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়া এবং দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অর্থ বরাদ্দের অভাবে প্রকল্পটি আগে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।
বৈঠকে কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পথ নিরাপত্তা এবং শহুরে পরিকাঠামো সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলিও পর্যালোচনা করা হয়। পুলিশ ও পুরসভাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে যানজট কমানো, যাতায়াত সহজ করা এবং বকেয়া প্রকল্পগুলিতে গতি আনার ওপর জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, সরকার কেবল বর্তমান প্রয়োজন নয়, বরং আগামী ৫০ বছরের চাহিদাকে মাথায় রেখে শহুরে পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে চায়, যাতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি