বন্যাদুর্গতদের বিমা-দাবি দ্রুত মেটাতে ৫ আগস্ট বিমা সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
- ঋণ পরিশোধে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ নিয়েও এনবিএউসি-র সঙ্গে আলোচনা, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একাধিক ত্রাণ ও পুনর্বাসন ঘোষণা হিমন্তবিশ্বের - পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী ৯ আগস্ট থেকে উজান অসমের চারটি বন্যাকবলিত জেলায় পুনরায় বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পরিকল্প
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা


- ঋণ পরিশোধে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ নিয়েও এনবিএউসি-র সঙ্গে আলোচনা, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একাধিক ত্রাণ ও পুনর্বাসন ঘোষণা হিমন্তবিশ্বের

- পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী ৯ আগস্ট থেকে উজান অসমের চারটি বন্যাকবলিত জেলায় পুনরায় বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা

গুয়াহাটি, ৩১ জুলাই (হি.স.) : অসমের বন্যাদুর্গত মানুষের ন্যায্য বিমা-দাবি যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয় এবং কোনও প্রকৃত দাবিদার যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে আগামী ৫ আগস্ট বিমা সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

আজ শুক্রবার জনতা ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, আসন্ন বৈঠকে মূলত মোটরযান ও যানবাহনের বিমা দাবির দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে আলোচনা হবে। বিমা সংস্থাগুলিকে অযথা বিলম্ব বা গাফিলতি না করে দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

এছাড়া গবাদি পশুর বিমা এবং জীবনবিমা সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি সর্বাত্মক আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।

একই দিন মুখ্যমন্ত্রী নন-ব্যাংকিং ফিনানশিয়াল কোম্পানিজ (এনবিএফসি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। সেখানে বন্যাদুর্গতদের জন্য আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ঘোষিত ঋণ পরিশোধে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ (মোরাটোরিয়াম) কার্যকর করার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি জানান, দ্রুত আর্থিক সহায়তা, বিমা দাবি নিষ্পত্তি এবং ঋণ পরিশোধে স্বস্তি প্রদানের মাধ্যমে বন্যাকবলিত পরিবারগুলিকে পুনর্বাসনে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা উজান অসমের বন্যাদুর্গত পরিবারগুলির জন্য একাধিক ত্রাণ ও পুনর্বাসনমূলক পদক্ষেপেরও ঘোষণা করেছেন আজ। তিনি জানান, আগামী ২ অথবা ৩ আগস্ট থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে অবিলম্বে সহায়তা হিসেবে ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান শুরু হবে।

এছাড়া চড়াইদেও, শিবসাগর, যোরহাট এবং গোলাঘাট, এই চারটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় আগামী ৭ আগস্ট থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত সমীক্ষা শুরু হবে। ১৫ দিনের মধ্যে এই সমীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার স্কুলের ইউনিফর্মের জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে পড়াশোনা দ্রুত স্বাভাবিক করা যায়।

বন্যা ও কাদায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের জন্য ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী ৯ আগস্ট থেকে উজান অসমের চারটি বন্যাকবলিত জেলায় পুনরায় বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে আজই (শুক্রবার) মন্ত্রীদের একটি দল উজান অসমে রওয়ানা হবে। তারা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম তদারক করবেন। পাশাপাশি চড়াইদেও ও শিবসাগর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজও ঘোষণা করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শৰ্মা বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই পদক্ষেপগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande