
হাফলং (অসম), ৩১ জুলাই (হি.স.) : ভারতের ষোড়শ জাতীয় জনগণনা এবং স্বাধীনতার পর অষ্টম জনগণনা ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ইতিহাসে এই জনগণনাকে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এবার প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সমগ্র জনগণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ফলে জনগণনার কাজ আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং নির্ভুল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ শুক্রবার হাফলঙে জেলা কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেলাশাসক গায়ত্রী দেবীদাস হাইলিঙ্গে জানান, ডিমা হাসাও জেলায় জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম পর্যায়ের গৃহ তালিকাভুক্তকরণ (হাউস লিস্টিং) এবং গৃহ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ আগামী ১৬ আগস্টের পর শুরু হবে। এই পর্যায়ে প্রতিটি বাড়ি, আবাসনের অবস্থা, উপলব্ধ নাগরিক সুবিধা এবং অন্যান্য প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
জেলাশাসক আরও জানান, জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জনসংখ্যা গণনার কাজ সম্পন্ন হবে। এই পর্যায়ে প্রতিটি ব্যক্তির সামাজিক, শিক্ষাগত, অর্থনৈতিক এবং জনতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সরকারি নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এবারের জনগণনার অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো স্ব-গণনা ব্যবস্থা।
এর অধীনে নাগরিকরা ২ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেরাই তাঁদের পরিবারের তথ্য পূরণ করতে পারবেন। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগে নাগরিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সময়সাশ্রয়ী হবে।
জেলাশাসক সকল নাগরিককে জনগণনার কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তথ্য প্রদানের সময় সঠিক ও সম্পূর্ণ তথ্য জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে জনগণনার ফলাফল বাস্তবসম্মত ও নির্ভুল হয়।
উল্লেখ্য, জনগণনার তথ্য দেশের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ, উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্পদ বণ্টন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ, আবাসন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি নীতি নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব