
কলকাতা, ৩১ জুলাই (হি.স.): বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও কোম্পানিকে লিজে দেওয়া জমির ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর। যে উদ্দেশ্যে জমি বণ্টন করা হয়েছিল, তার কাজ শুরু হয়েছে কি না কিংবা নিয়মের বাইরে গিয়ে জমির ব্যবহার করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখাই এই পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য।
দফতরের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, পর্যালোচনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হবে লিজে দেওয়া জমি নির্দিষ্ট শিল্প প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, নাকি তা দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদি বা খালি পড়ে রয়েছে। যদি দেখা যায় কোনও জমিতে একেবারেই কোনও কাজ হয়নি, তবে রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে সেই জমি ফেরত নিয়ে অন্য কোনও শিল্প প্রকল্পের জন্য তা পুনরায় বরাদ্দ করার কথা ভাববে।
যেসব ক্ষেত্রে প্রকল্পের কাজ আংশিক হয়েছে, সেখানে জমি ব্যবহারকারী সংস্থার কাছে প্রকল্প শেষের সময়সীমা এবং কাজ দেরিতে হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী, কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি নতুন ও বাস্তবসম্মত সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হতে পারে।
পর্যালোচনার দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো—যে উদ্দেশ্যে জমি লিজে দেওয়া হয়েছিল, তা ঠিক সেই কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা সুনিশ্চিত করা। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া যদি অন্য কোনো কাজে জমির ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে কৈফিয়ত তলব করা হবে।
আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, এই ধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে জবাব পাওয়ার পর রাজ্য সরকার প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবে। নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি লিজ বাতিল করার মতো কড়া পদক্ষেপও গ্রহণ করা হতে পারে।
রাজ্য সরকারের নজরে এসেছে এমন বহু দৃষ্টান্ত, যেখানে লিজে দেওয়া জমি বছরের পর বছর খালি পড়ে রয়েছে, আংশিক ব্যবহৃত হয়েছে অথবা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের বাইরে অন্য কোনও কাজে লাগানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রত্যক্ষ জমি ক্রয় নীতি চালু করেছে। এর অধীনে সরকার সরাসরি জমির মালিকদের কাছ থেকে জমি কেনে এবং পরবর্তীকালে তা পরিকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করে।
ভূমি দফতরের কর্তাদের বক্তব্য, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পের জমি এবং অব্যবহৃত লিজের জমিকে উন্নয়নমূলক প্রকল্পে পুনঃব্যবহার করতে চায় সরকার। সেই লক্ষ্যেই লিজে দেওয়া জমি পর্যালোচনার এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি