বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতিতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়োগ, স্থান পেলেন না শিক্ষাবিদরা
কলকাতা, ৩১ জুলাই (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতির (এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল) জন্য নিজেদের মনোনীত প্রতিনিধিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার সবকটি পদে শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক বা শিক্ষাকর্মীদের পর
বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতিতে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়োগ, স্থান পেলেন না শিক্ষাবিদরা


কলকাতা, ৩১ জুলাই (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতির (এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল) জন্য নিজেদের মনোনীত প্রতিনিধিদের তালিকা প্রকাশ করেছে। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এবার সবকটি পদে শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক বা শিক্ষাকর্মীদের পরিবর্তে ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা (আইএএস) এবং পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সেবা (ডব্লিউবিসিএস)-র আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা জগতে এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।

উপযুক্ত সরকারি প্রতিনিধির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতির বৈঠক আটকে ছিল। শুক্রবার উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হলো— যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বারাসাত রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়, বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়, কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, রানি রাসমণি গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়, হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়, সিধো-কানহু-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দার্জিলিং হিলস বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এই তালিকায় রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন ও প্রধান প্রতিষ্ঠান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একই আধিকারিককে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। যেমন, উচ্চশিক্ষা দফতরের যুগ্ম সচিব অরিিন্দম বিশ্বাসকে দার্জিলিং হিলস, কন্যাশ্রী এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি করা হয়েছে। অন্যদিকে, যুগ্ম সচিব আজার জিয়াকে দেওয়া হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব।

সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষা জগতের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন ‘ওয়েবকুপা’-র সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সাহা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় শিক্ষাবিদদেরই প্রধান ভূমিকা থাকা উচিত। তাঁর মতে, একজন প্রশাসনিক আধিকারিক এবং একজন শিক্ষাবিদের কাজের ধারা ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথাগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব শিক্ষাবিদদের হাতেই থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শিক্ষাক মহাসংঘ’ (উচ্চশিক্ষা)-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত সরকার সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও শিক্ষাকাঠামোকে সুশৃঙ্খল করতে এই মুহূর্তে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রয়োজন ছিল। জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) কার্যকরের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত সাহায্য করবে বলে তাঁর মত।

উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মনোনীত আধিকারিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠকগুলিতে যোগ দেওয়ার আগে দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এবং উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। পাশাপাশি, বৈঠকের আলোচনা সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণী কার্য বিবরণীর (মিনিটস) জন্য অপেক্ষা না করেই অবিলম্বে উচ্চশিক্ষা দফতরে পাঠাতে হবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande