
শান্তিরবাজার (ত্রিপুরা), ৩১ জুলাই (হি.স.): সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে পারলেই রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার মানুষের সমস্যা সমাধান এবং সর্বস্তরের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে।
শুক্রবার দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার মহকুমার পিএমশ্রী তইকর্ম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে ২৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মোট ৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ১৭৯ কোটি ৮ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা।
এর মধ্যে উদ্বোধন হওয়া ২৩টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত ১২টি প্রকল্পে ব্যয় হবে ১৪২ কোটি ৬৩ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, উদ্বোধন ও শিলান্যাস হওয়া প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে ১৪টি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ১১টি, পূর্ত দফতরের ৪টি এবং জনজাতি কল্যাণে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত প্রকল্প। এসব প্রকল্পের ফলে শান্তিরবাজার, সাব্রুম ও বিলোনিয়া মহকুমার গ্রামীণ এলাকার মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নয়নে ইতিমধ্যেই শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট চালু হয়েছে এবং ট্রমা সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া শান্তিরবাজার রাবার পার্কের উন্নয়নে ৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সাব্রুম স্পেশাল ইকোনমিক জোনে দেশ-বিদেশের শিল্পপতিরা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। লধুয়া চা বাগানে বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বিলোনিয়ায় মুহুরী নদীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সার্বিক উন্নয়নে প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। জেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভে প্রায় ১,২০০ জন শিল্পপতি অংশ নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গত এক বছরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পর্যটনের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুষ্পবন্ত প্রাসাদকে প্যালেস হোটেলে রূপান্তরের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রায় ২০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং রাজ্যে পর্যটন শিল্পের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন বিদ্যালয় ভবন ও ছাত্রাবাস নির্মাণ, স্মার্ট ক্লাস চালু, ছাত্রীদের সাইকেল, স্কুটি ও মোবাইল ফোন প্রদান এবং বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে এমবিবিএস আসন বৃদ্ধি, ডেন্টাল কলেজ স্থাপন এবং জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২১টি একলব্য বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ চলছে। আরও একলব্য বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবাসন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় রাজ্যে ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। জনজাতি সম্প্রদায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সকলকে উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ত্রিপুরা দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী পিএমশ্রী তইকর্ম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত বিদ্যালয় ভবন ও ছাত্রী নিবাসের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্স ও আপদামিত্র সদস্যদের মধ্যে উদ্ধার সামগ্রী বিতরণ এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার আটটি ব্লকের চেয়ারম্যানদের হাতে বর্জ্য সংগ্রহের গাড়ির চাবি তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত, বিধায়ক স্বপ্না মজুমদার, এমডিসি কেনারাম রিয়াং, পূর্ত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে, বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের সচিব ডঃ মিলিন্দ রামটেকে, দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলাশাসক মহঃ সাজ্জাদ পি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা দফতরের অধিকর্তা ডঃ সমিত রায় চৌধুরী, জেলার পুলিশ সুপার মৌর্যকৃষ্ণ সি, অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের প্রধান জেনারেল ম্যানেজার অরুণাভ বড়ুয়াসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলাশাসক মহঃ সাজ্জাদ পি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ