
পশ্চিম বর্ধমান, ৯ জুলাই (হি.স.): আসানসোল পুরনিগমের মুখোমুখি জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ হলো নিয়ম সঠিকভাবে কার্যকর না করা। এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে কাজ করা হচ্ছে। এটি এমন কোনো সমস্যা নয় যা রাতারাতি সমাধান হয়ে যাবে, তবে এই লক্ষ্যে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং পদক্ষেপ করাও শুরু হয়েছে। যেখানেই সরকারি জমি দখল বা অন্য কোনো অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা একটি অভিযোগ কেন্দ্র বা গ্রিভেন্স সেল খোলার নির্দেশ দিয়েছি। যদি কারও কোনো সমস্যা থাকে, তবে তিনি সরাসরি অভিযোগ কেন্দ্রে এসে জানাতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীদের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি যে ব্যক্তিই হোন না কেন, বা যে রাজনৈতিক দলেরই কাউন্সিলর হোন না কেন, যদি নিয়ম লঙ্ঘন করে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। যেখানে ড্রেন তৈরি হয়নি, যেখানে জল জমার সমস্যা রয়েছে কিংবা ড্রেন পরিষ্কার করা হয়নি, সেখানে অবিলম্বে সাফাইয়ের কাজ করানো হবে। বর্ষার পর যেসব জায়গায় স্থায়ী কাজের প্রয়োজন হবে, সেখানে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হবে।
অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অবৈধ নির্মাণেরও বেশ কিছু অভিযোগ মিলেছে। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যেখানেই অবৈধ বাণিজ্যিক নির্মাণ হচ্ছে, সেখানে তদন্ত হবে। যদি নিয়ম অনুযায়ী কিছু সংশোধনের মাধ্যমে ভবনটিকে বৈধ করা সম্ভব হয়, তবে তা বিবেচনা করা হবে। কিন্তু পুরো নির্মাণটিই যদি অবৈধ প্রমাণিত হয়, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরবাসীদের সুবিধার্থে তিনি বলেন, আসানসোল পুরনিগমে 'মুখোমুখি' জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করছি, যাতে পুর এলাকার মানুষের কোনো পরিষেবা পেতে সমস্যা হলে বা আমাদের পক্ষ থেকে কোনো খামতি থাকলে তাঁরা সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এর জন্য দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। আমি নিজেও ফোন তুলব। আমাদের প্রশাসক, পুরকমিশনার, পুলিশ আধিকারিক এবং সমস্ত দফতরের আধিকারিকরাও অভিযোগ সমাধানের জন্য উপস্থিত থাকবেন।
এদিন কর্মসূচি চলাকালীন একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে এবং সেগুলির সমাধানের কাজও শুরু হয়ে গেছে। মন্ত্রী জানান, কেবল আজই নয়, নগরোন্নয়ন দফতর একটি স্থায়ী অভিযোগ কেন্দ্রও গড়ে তুলেছে। এর হেল্পলাইন নম্বর দফতরের অফিসিয়াল পেজে জারি করা হয়েছে। শহরাঞ্চল সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা সেখানে নথিভুক্ত করা যাবে। অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট পুরনিগমের কাছে পৌঁছে যাবে এবং যতক্ষণ না তার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ অভিযোগটি বন্ধ করা হবে না।
যেমন 'স্বচ্ছ অ্যাপ'-এর মাধ্যমে মানুষ আবর্জনা, জল জমা বা অন্য সমস্যার ছবি পাঠাতে পারেন এবং সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগটি সক্রিয় থাকে, ঠিক একইভাবে এই কর্মসূচি এবং অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিটি অভিযোগের ওপর নজরদারি চালানো হবে।তিনি উল্লেখ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের সরকার 'জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের সরকার' নীতিতে কাজ করছে। আসানসোল পুরনিগম ২৪ ঘণ্টা, বছরের ৩৬৫ দিন জনগণকে আরও উন্নত পরিষেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পানীয় জলের সমস্যা নিয়েও লাগাতার অভিযোগ মিলছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জল প্রকল্পের অধীনে পাইপলাইন বসানো হলেও অনেক জায়গায় এখনো জল সরবরাহ শুরু হয়নি। বেশ কিছু জায়গায় পাইপের গুণমানও খারাপ। এছাড়া কিছু মানুষ মোটর লাগিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল টেনে নিচ্ছেন, যার ফলে আশপাশের মানুষ জল পাচ্ছেন না। এটিও এক ধরণের জল চুরি। জল একটি মূল্যবান সম্পদ, তাই এটি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। যেখানেই মোটর লাগিয়ে জল চুরির অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ সংযোগ কেটে দেওয়া হবে। আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এই বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি। জলের ওপর সবার সমান অধিকার রয়েছে এবং কাউকে অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি