
হুগলি , ৯ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন রুখতে প্রশাসন একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেলেও বাজারে বালির দাম হু হু করে বেড়েছে। বালির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষ, প্রোমোটার, ডেভেলপার, সরকারি ঠিকাদার থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তারাও চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। বহু সরকারি নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে, পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় নির্মীয়মাণ বাড়ির কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, গত এক মাসে প্রতি ১০০ সিএফটি বালির দাম প্রায় ২,৮০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে বেশি দাম দিয়েও পর্যাপ্ত বালি পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ কম থাকার সুযোগে অনেক খুচরো বিক্রেতা ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন, ফলে নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা জমা পড়েছে। এরপর অনেকেই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছেন। কারও ইটের গাঁথনি শেষ হয়েছে, আবার কেউ দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়ার পর ছাদের ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই বালির দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতির কারণে উপভোক্তারা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন।
হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমা দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের অন্যতম প্রধান বালি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে হুগলি, হাওড়া, কলকাতা এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় বালি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে বালির জোগান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বহু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ থমকে গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের সময় আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকায় জেলার সমস্ত বালি খাদান বন্ধ ছিল। এছাড়াও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সময় সাধারণত বালি উত্তোলন করা হয় না। এই দুই কারণেই বাজারে বালির সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে শুধুমাত্র যাঁরা আগে থেকেই বালি মজুত করে রেখেছিলেন, তাঁদের কাছেই কিছু বালি রয়েছে। চাহিদা বেশি এবং সরবরাহ কম থাকায় কয়েকজন ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে বালি বিক্রি করছেন। আগে এক ট্রাক বালির দাম ছিল প্রায় ৫,৫০০ টাকা, যা এখন বেড়ে প্রায় ৮,৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। যদিও সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তাদের নির্ধারিত দামে বালি সরবরাহ করার কথা, কিন্তু অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের সুযোগে অনেক ব্যবসায়ী সেই নির্দেশ মানছেন না।
গোঘাটের বালি খাদান মালিক জ্যোৎস্না রায় বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তাদের বালি সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক। যদিও শ্রমিকের মজুরি, পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে, তবুও সরকারি নির্দেশ মেনেই উপভোক্তাদের নির্ধারিত দামে বালি দেওয়া হচ্ছে।
গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন, আগের সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, দুর্গাপুজোর পর অক্টোবর মাস থেকে বালির সরবরাহ এবং দাম স্বাভাবিক হতে শুরু করবে, ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তা গোঘাটের অর্চনা লোহার বলেন, প্রথম কিস্তিতে পাওয়া ৬০ হাজার টাকার অর্ধেকই এখন বালি কিনতে খরচ হয়ে যাবে। এরপর বাড়ি তৈরির বাকি কাজ কীভাবে সম্পূর্ণ হবে, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অপর এক উপভোক্তা ময়না লোহার বলেন, শুধু বালি নয়, সমস্ত নির্মাণ সামগ্রীর দাম এতটাই বেড়েছে যে বরাদ্দ অর্থে অর্ধেক কাজও শেষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA