
ঝাড়গ্রাম, ১ আগস্ট (হি.স.) : ঝাড়গ্রাম জেলায় ফের হাতির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়লেন চাষিরা। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতির দল বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা ধানখেত নষ্ট করায় আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গিধনী রেঞ্জের আমতলিয়া বিটের চান্দুয়া জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকায় ২৫ থেকে ৩০টি হাতির একটি বড় দল রাতভর তাণ্ডব চালায়। একের পর এক ধানখেতে ঢুকে বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা চারা ধান খেয়ে এবং পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দেয় তারা। এতে চাষিদের বড়সড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, খড়্গপুর বনবিভাগের কলাইকুন্ডা রেঞ্জের পত্না এলাকায়ও ৬ থেকে ৭টি হাতির একটি দল তাণ্ডব চালায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় ৩ থেকে ৪ বিঘা জমির চারা ধান নষ্ট হয়েছে। রাতভর বনকর্মী ও হুলা পার্টি হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন রেঞ্জে ছোট ছোট দলে হাতিরা ঘোরাফেরা করছে। মাণিকপাড়া রেঞ্জের রমরমা বিটের আখড়াশোল ও জামবৈদ্যা এলাকায় একটি হাতি, গুইমারা গ্রামের কাছে পরিচিত হাতি ‘রামলাল’, কুসুমঘাটি বিটের রাজাবাসায় একটি হাতি, গিধনী রেঞ্জের চান্দুয়া জঙ্গলে ২৫ থেকে ৩০টি হাতির বড় দল এবং ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের বৃন্দাবনপুর এলাকায় তিনটি হাতির অবস্থান রয়েছে।
একাধিক এলাকায় ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি কাঁচা বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। ফলে বহু গ্রামে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বনদফতরের পক্ষ থেকে মাইকিং করে গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি জঙ্গলে কাঠ, জ্বালানি কাঠ বা শালপাতা সংগ্রহ করতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বনকর্মীরা হাতির গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছেন।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং হাতির উপদ্রব রুখতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো