
ছোটখাটো অপরাধে জেলের বদলে জরিমানায় জোর, গুরুতর অপরাধে বহাল কঠোর শাস্তি
গুয়াহাটি, ১ আগস্ট (হি.স.) : যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং রেল পরিষেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলতে ‘রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯’-এর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধানে সংশোধন আনা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সংশোধিত বিধান কার্যকর করার বিষয়ে যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে অবহিত করেছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর)।
আজ শনিবার উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এক প্রেস বার্তায় এ খবর দিয়ে জানান, সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য হলো রেল-সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়াকে সহজ করা, নির্দিষ্ট কিছু বিধানকে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (বিএনএস)-র সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং যাত্রী নিরাপত্তা ও রেল পরিষেবার স্বাভাবিক পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটায় এমন অপরাধের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সংশোধিত বিধান অনুযায়ী রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর ১৩৭, ১৩৮, ১৪২, ১৪৪, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, ১৫৫, ১৫৯, ১৬২, ১৬৩, ১৬৫, ১৬৬, ১৬৭ এবং ১৭২ নম্বর ধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন বিধানে বৈধ টিকিট ছাড়া ভ্রমণ, নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে অননুমোদিত যাত্রা, টিকিট হস্তান্তর, সংরক্ষিত কামরায় অননুমোদিত প্রবেশ, ধূমপান, রেলওয়ে সম্পত্তির ক্ষতিসাধন সহ বিভিন্ন ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমবার বা কম গুরুতর অপরাধে মূলত আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কারাদণ্ডের বিধান সাধারণত জরিমানা দিতে ব্যর্থ হওয়া বা একই ধরনের অপরাধ বারবার করার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে, মাতাল অবস্থায় উপদ্রব সৃষ্টি, রেলকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, অননুমোদিত প্রবেশ, বিপজ্জনক সামগ্রী অবৈধভাবে বহন এবং রেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এমন অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে প্রেস বার্তায় জানানো হয়েছে।
সকল যাত্রী ও রেল পরিষেবা ব্যবহারকারীকে সংশোধিত নিয়মাবলি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার এবং ভ্রমণের সময় রেলের সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
এনএফ রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল শর্মা জানান, এই সংশোধনের ফলে ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত আইন প্রয়োগ সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে যাত্রী নিরাপত্তা ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত করে এমন গুরুতর অপরাধ দমনে আরও কার্যকরভাবে মনোনিবেশ করা যাবে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যাত্রীবান্ধব রেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস