


অরুণোদয়–এর সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত হয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব
গুয়াহাটি, ১ আগস্ট (হি.স.) : অরুণোদয় প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের যাতে কোনও ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়, সেজন্য রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন করে ‘অরুণোদয় সারথি’ নিয়োগ করা হবে। আজ শুক্রবার গুয়াহাটির পাঞ্জাবাড়িতে অবস্থিত শ্রীশ্রী দামোদরদেব আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে অরুণোদয় ৩.০ প্রকল্পের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম আর্থিক সহায়তা বিতরণের রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে রাজ্যের ৩৭ লক্ষ মা-বোন অরুণোদয় প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পাবেন। তিনি বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে অনুদানের অর্থ পৌঁছে দিতে এবার অরুণোদয়–এর সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত (আধার লিংক) করা হয়েছে।
ড. শর্মা বলেন, অনেক সময় নাম বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের অসংগতির দরুন অর্থ স্থানান্তর হলেও তা প্রকৃত সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে পৌঁছে না। সেই সমস্যা দূর করতেই আধার সংযুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত অর্থ সরাসরি প্রকৃত উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অরুণোদয় প্রকল্পকে আরও কার্যকর ও জনপ্রিয় করতে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন করে অরুণোদয় সারথি নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে সুবিধাভোগীরা অগ্রিম অর্থ পাওয়ার সুযোগও পাবেন। তিনি বলেন, কোনও মা-বোনের যদি জরুরি ভিত্তিতে অর্থের প্রয়োজন হয়, তা-হলে তাঁদের আর উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হবে না, অরুণোদয় প্রকল্প থেকেই সেই সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া, ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে ইচ্ছুক সুবিধাভোগীদের জন্য অরুণোদয়ের আর্থিক সহায়তাকে কিস্তি হিসেবে গ্রহণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যের অর্থমন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার মানসপুত্র অরুণোদয় প্রকল্প রাজ্যে মহিলাদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি অসমের প্রাথমিক অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অনুষ্ঠানে অন্য বহুজনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বিজয় গুপ্তা, দিপ্লুরঞ্জন শর্মা ও প্রদ্যুত বরদলৈ, গুয়াহাটির মেয়র মৃগেন শরণিয়া, অর্থ দফতরের আয়ুক্ত-সচিব জয়ন্ত নারলিকার, একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক ও সরকারি আধিকারিক। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মন্ত্রী-বিধায়কদের পাশাপাশি বিটিসি-প্রধান, কার্যনির্বাহী সদস্য, কার্বি আংলং ও ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদের প্রধান কার্যনির্বাহী সদস্য, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পুরসভার ওয়ার্ড কমিশনাররা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস