
গোসাবা, ১ আগস্ট (হি. স.): গোসাবা থানার পুলিশ অবৈধভাবে সাদা বালি পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি বালি বোঝাই নৌকা আটক করেছে। এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে খনিজ সম্পদ অবৈধভাবে উত্তোলন ও বৈধ নথি ছাড়া বালি পরিবহনের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।
শনিবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ জুলাই সকাল প্রায় ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ গোপন সূত্রে খবর আসে যে, গোসাবার চাঁদিপুর ফিশারি ঘাট থেকে পাঁচটি ঢালাই নৌকায় বিপুল পরিমাণ সাদা বালি বোঝাই করে সোনাখালির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সেই খবর পেয়েই গোসাবা থানার ওসি সনাতন কর্মকারের নির্দেশে এসআই প্রদীপ সাহার নেতৃত্বে একটি দল চাঁদিপুর ফিশারি ঘাট সংলগ্ন নদীপথে অভিযান চালায়।
নদীর মাঝখানে পরপর চলতে থাকা পাঁচটি নৌকাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ জানায়, নৌকাগুলিতে যথাক্রমে প্রায় ৪৫০, ৩৫০, ৪০০, ৫০০ এবং ৫৫০ ঘনফুট সাদা বালি বোঝাই ছিল। বালি পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে নৌকার চালকরা কোনও নথি দেখাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেন, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে চাঁদিপুর থেকে সোনাখালিতে বিক্রির জন্য বালি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
ফলে পুলিশ পাঁচটি নৌকা ও তাতে থাকা বিপুল পরিমাণ সাদা বালি বাজেয়াপ্ত করে। গ্রেফতার করা হয় আকবর শেখ, সোহর আলি শেখ, রুহুল আমিন সরদার, আজিজুল লস্কর এবং নবির আলি সরদারকে। ধৃতদের সকলের বাড়িই বাসন্তীর রামচন্দ্রখালি এলাকায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও বেশ কয়েকজনের নাম এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে উঠে এসেছে। তাঁদের খোঁজেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৩(২), ৩১৭(২), ৬১(২) ধারার পাশাপাশি মাইন্স অ্যান্ড মিনারেল এক্ট, ১৯৫৭-এর ২১ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে গোসাবা থানার পুলিশের তরফে। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ খনিজ পরিবহন ও এর সঙ্গে জড়িত চক্রের সন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃতদের শনিবার আলিপুর আদালতে তোলা হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা