বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ : মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ১ আগস্ট (হি.স.) : শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, উন্নত আইন-শৃঙ্খলা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে ত্রিপুরা এখন শিল্পপতিদের কাছে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের গন্তব্য হয়ে উঠছে। তবে শুধু বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর
এজিএমসির প্রতিষ্ঠা দিবস


আগরতলা, ১ আগস্ট (হি.স.) : শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, উন্নত আইন-শৃঙ্খলা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে ত্রিপুরা এখন শিল্পপতিদের কাছে আকর্ষণীয় বিনিয়োগের গন্তব্য হয়ে উঠছে। তবে শুধু বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করাই যথেষ্ট নয়, সেগুলির দ্রুত ও সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার-প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শনিবার আগরতলার এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

এদিন এজিএমসি-র অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে, এজিএমসি-র অধ্যক্ষ, জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার, রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকনগরের অধ্যক্ষ-সহ স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট অতিথিরা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাজ্য সরকার এবং রামকৃষ্ণ মিশন, বিবেকনগরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্রিপুরাও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দেশের অন্যান্য অনেক রাজ্যের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ত্রিপুরা অত্যন্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশই আজ শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের অন্যতম প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিজনেস কনক্লেভে প্রথমে যেখানে ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা ধরা হয়েছিল, সেখানে শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রস্তাব বেড়ে দাঁড়ায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার কোটি টাকায়। এই বিপুল আগ্রহ ত্রিপুরার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমওইউ স্বাক্ষরের মধ্যেই সাফল্য সীমাবদ্ধ নয়। প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নই আসল লক্ষ্য। ২০২৫ সালের বিজনেস কনক্লেভে ৩০ হাজার কোটি টাকার এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালেও বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের চুক্তি হয়েছে। এবার সেই সব প্রকল্প বাস্তবে রূপ দিতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে বলে তিনি নির্দেশ দেন।

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও আশা ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে চিকিৎসা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ রেফার কেস কমে এসেছে, যা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক পরিষেবার ফল। রাজ্যের মানুষ এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজ রাজ্যেই উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এজিএমসি তথা জিবি হাসপাতালের ২২ বছরের পথচলার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠান আজ শুধু চিকিৎসা পরিষেবাই নয়, চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আধুনিক চিকিৎসা, গবেষণা এবং মানবিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে রাজ্য সরকার ও রামকৃষ্ণ মিশন, বিবেকনগরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande