জনগণনার কাজে অধিকাংশ শিক্ষক! দুর্গাপুর- বর্ধমানে লাটে ওঠার আশঙ্কায় স্কুলের পঠনপাঠন
দুর্গাপুর, ১ আগস্ট (হি. স.) : জনগণনার কাজে যুক্ত করা হয়েছে স্কুলশিক্ষকদের। আর তার জেরে অধিকাংশ স্কুলেই পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। আর তার প্রতিবাদে সরব হল উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার ওয়েলফেয়ার অ্যশোসিয়েশন। ইতিমধ্যে, পড়ুয়াদের স্বার্থে স্কুলগুলি
জনগণনার কাজে অধিকাংশ শিক্ষক! দুর্গাপুর- বর্ধমানে লাটে ওঠার আশঙ্কায় স্কুলের পঠনপাঠন


দুর্গাপুর, ১ আগস্ট (হি. স.) : জনগণনার কাজে যুক্ত করা হয়েছে স্কুলশিক্ষকদের। আর তার জেরে অধিকাংশ স্কুলেই পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। আর তার প্রতিবাদে সরব হল উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার ওয়েলফেয়ার অ্যশোসিয়েশন। ইতিমধ্যে, পড়ুয়াদের স্বার্থে স্কুলগুলিতে ন্যূনতম শিক্ষক রাখা ও অন্যান্য সরকারি কর্মীদের জনগনণা কাজে নিয়োগের দাবীতে গলসী-১ নং ব্লকে ডেপুটেশন দিল।

উল্লেখ্য, শনিবার থেকে রাজ্যজুড়ে জনগনণা শুরু হয়েছে। তবে এখন অনলাইনে নাগরিকরা এনুমারেশন জমা করার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে অনলাইনে। তারপর, শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগনণা করবেন। ইতিমধ্যে জনগণনার বিভাগের তরফে জেলাস্কুল পরিদর্শককে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়, জনগণনার কাজে শিক্ষকদের যুক্ত করতে হবে। এ জন্য তাঁদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আর তাতেই বিপাকে পড়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে প্রাইমারি জেলার স্কুলগুলি। অভিযোগ, জনগণনার কাজে কোনও কোনও স্কুলের ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষককে যুক্ত করা হয়েছে। কোনও কোনও স্কুলে প্রধানশিক্ষক ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষককেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি কাজে যোগ না দিলে শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে স্কুলের পঠনপাঠন।

উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার ওয়েলফেয়ার অ্যশোসিয়েশনের তরফে দাবী, গলসী-১ নং ব্লকের খুরাজ প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে ১৪৪ জন পড়ুয়া, ৪ জন শিক্ষক। জনগনণায় নেওয়া হয়েছে ৩ জন শিক্ষককে। মাত্র একজনকে ১৪৪ জন পড়ুয়ার সামলাতে হবে পঠনপাঠন। একইরকমভাবে জাগুলিপাড়া প্রাইমারি স্কুলের ১১৪ জন পড়ুয়া। ৪ জন শিক্ষক। সেখানেও ৩ জন শিক্ষককে জনগনণায় নেওয়া হয়েছে। আবার দুর্গাপুর ইস্পাতনগরী এফপি স্কুল ১০৩ জন পড়ুয়া। ২ জন শিক্ষক। সেখানে ২ জন শিক্ষককেই জনগননায় নেওয়ায় আরও সঙ্কজনক তৈরী হয়েছে। নেতাজী বিদ্যালয় ৫৪৩ জন পড়ুয়া, ১১ জন শিক্ষক। সেখানে ৯ জন শিক্ষককে জনগনণায় নেওয়া হয়েছে। আবার এমনও কিছু স্কুল আছে, যেখানে একজনই নাত্র শিক্ষক রয়েছেন। উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার ওয়েলফেয়ার অ্যশোসিয়েশনের পক্ষে রাজীব দত্ত বলেন, জনগনণা গুরুত্বপুর্ন কাজ। জনগননা যেমন করতে হবে, তেমনই শিশুদের শিক্ষার অধিকার বিষয়টিও দেখতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক থাকা দরকার। কিন্তু, বর্তমানে সেই অনুপাতে শিক্ষকই নেই। নিয়োগ না হওয়ায় রাজ্যের বহুস্কুলে সঙ্কটজনক পরিস্থিতি রয়েছে। তারপর এখন জনগনণার কাজে অধিকাংশ শিক্ষক তুলে নেওয়া হলে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। তাই, স্কুলে নুন্যতম শিক্ষক রাখা হোক। প্রাথমিক শিক্ষক ছাড়াও অন্যান্য সরকারি কর্মীদের জনগনায় নেওয়া হোক। কাজের সমবন্টক করা হোক। এছাড়াও জনগনণায় কাজে সরকারের তরফে আপডেট মোবাইল দেওয়া হোক। এবিআরএসএমের শিক্ষক সংগঠনের তরফে রাজ্য সম্পাদক কৌশিক সরকার জানান, বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ কয়েকবছর কোন নিয়োগ হয়নি। তার খেসারত দিতে হচ্ছে। নতুন সরকার সমস্ত দিক চিন্তাভাবনা করছেন। মর্নিং স্কুল চালুর চিন্তাভাবনা নিচ্ছে সরকার। সেটা করা হলে, বাকি সারাদিন জনগনণার কাজ করতে পারবে শিক্ষকরা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande