
কলকাতা, ১ আগস্ট (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বর্ধমান থেকে জঙ্গি যোগের সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডল মামলায় আরও এক বড় সাফল্য অর্জন করেছে। এই ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে অর্পিতা সরকার নামের এক মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসটিএফের অভিযোগ, অর্পিতা হামিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত এবং একটি সংগঠিত চক্রের অংশ হিসেবে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলার কাজ করত।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের খবর, শুক্রবার বর্ধমান থেকে গ্রেফতার হওয়া হামিম মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অর্পিতার নাম সামনে আসে। এর পরপরই এসটিএফের একটি দল শুক্রবার রাতেই ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর অর্পিতাকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়েছে এবং শনিবার তাকে আদালতে পেশ করা হবে।
এসটিএফ জানিয়েছে, অর্পিতাকে মূলত হানিট্র্যাপের জন্য ব্যবহার করা হতো। উচ্চপদস্থ আধিকারিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিজের জালে ফাঁসিয়ে গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য জোগাড় করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
তদন্তকারী সংস্থা এও জানিয়েছে যে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় হামিম মণ্ডল এই সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক ও অর্পিতার সক্রিয় ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে। এবার অর্পিতাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করে সমস্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সম্ভাব্য সদস্যদের সন্ধান চালানোর কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে আদালত হামিম মণ্ডলকে ১৪ দিনের এসটিএফ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এসটিএফের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই -এর সঙ্গে তার যোগসূত্রের বিষয়টিও বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও সমস্ত অভিযোগই এখন তদন্তের সাপেক্ষ এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে জোরদার তদন্ত চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি