
আগরতলা, ১ আগস্ট (হি.স.) : দীর্ঘদিনের বকেয়া বিল পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনের পথে যাওয়া ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল)-এর ঠিকাদারদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার পর অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ-এর হস্তক্ষেপে ১৫ আগস্টের মধ্যে ৩০ কোটি টাকার বকেয়ার মধ্যে ২০ কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর এই আশ্বাস পাওয়ার পরই টিএসইসিএল কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন তাদের ঘোষিত ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর ধরে বিভিন্ন কারণে টিএসইসিএল-এর অধীন কর্মরত ঠিকাদারদের বিপুল অঙ্কের বিল বকেয়া পড়ে রয়েছে। এই বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা বলে দাবি সংগঠনের। দীর্ঘদিন ধরে বিল না মেটানোয় ঠিকাদারদের আর্থিক সংকট চরম আকার ধারণ করে। শ্রমিকদের মজুরি, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য পরিশোধ এবং চলমান প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বকেয়া বিলের দাবিতে বারবার নিগম কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের পথ বেছে নেন ঠিকাদাররা। সংগঠনের অভিযোগ, বিদ্যুৎ নিগমের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে একাধিকবার বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও জানানো হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের।
ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের জেরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় শনিবার বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ টিএসইসিএল কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে প্রতিনিধিরা তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানান এবং বিলম্বের ফলে ঠিকাদারদের যে আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনার পর বিদ্যুৎমন্ত্রী বৈঠক চলাকালীনই বিদ্যুৎ নিগমের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নির্দেশ দেন, ৩০ কোটি টাকার বকেয়ার মধ্যে অন্তত ২০ কোটি টাকা আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। বাকি অর্থও পর্যায়ক্রমে মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
মন্ত্রীর এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে টিএসইসিএল কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর অবশেষে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিদ্যুৎমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাঁকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি, সরকারের আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
বিদ্যুৎ দফতরের সঙ্গে যুক্ত মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন ঠিকাদারদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে, তেমনি বিদ্যুৎ পরিকাঠামো সংক্রান্ত চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলির কাজও স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলেও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ