
জিরানীয়া (ত্রিপুরা), ১ আগস্ট (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা পাওয়ার আশায় একাধিকবার আবেদন, এমনকি বারবার জিও-ট্র্যাকিং সম্পন্ন হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত মাথা গোঁজার স্থায়ী আশ্রয় জোটেনি মান্দাই ব্লকের ধনাই গ্রামের অন্তোদয় রেশন কার্ডধারী মালতী দেববর্মার। ফলে বাধ্য হয়ে সন্তানদের নিয়ে আত্মীয়ের বাড়ির একটি জরাজীর্ণ বাঁশের কুঁড়েঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নিজের একটি পাকা বাড়ির আশায় সরকারি দফতরে আবেদন জানিয়ে আসছেন মালতী দেববর্মা। সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে একাধিকবার জিও-ট্র্যাকিংও করা হয়েছে। কিন্তু এতসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ঘর পাননি তিনি। বর্তমানে যে বাঁশের কুঁড়েঘরে তিনি বসবাস করছেন, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই ঘরটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রতিনিয়ত উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারের।
মালতী দেববর্মা অভিযোগ করে বলেন, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে তাঁদের আর দেখা যায় না। তিনি ১১-মান্দাই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক স্বপ্না দেববর্মা এবং সংশ্লিষ্ট এমডিসি জগদীশ দেববর্মার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, একাধিকবার বিষয়টি তাঁদের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মালতী দেববর্মা রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্রুত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় একটি পাকা ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর কথায়, আমাদের মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই নেই। সন্তানদের নিয়ে প্রতিদিন আতঙ্কে থাকতে হয়। সরকার যদি দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমরা নিরাপদে বাঁচতে পারব।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশেরও দাবি, প্রকৃত গৃহহীন ও অসহায় পরিবারেরাই যাতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পান, সে বিষয়ে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ও স্বচ্ছ ভূমিকা গ্রহণ করা জরুরি।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ