
আগরতলা, ১ আগস্ট (হি.স.) : আগামী ৬ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী নেশামুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এক বৃহৎ গণসচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করবে প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ভারত সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের সহযোগিতায় আয়োজিত এই জাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে নেশামুক্ত জীবনের অঙ্গীকার করানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই গৌরবময় জাতীয় অভিযানে ত্রিপুরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।
শনিবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের ইনচার্জ বিকে জোনালী বেহেনজী জানান, মাদক ও বিভিন্ন ধরনের নেশা আজ সমাজের অন্যতম বড় অভিশাপ। যুব সমাজকে এই সর্বনাশা প্রবণতা থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ, সুন্দর ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তুলতেই এই সর্বভারতীয় সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি জানান, এই অভিযানকে সফল করতে ইতিমধ্যেই এক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সচেতনতামূলক সভা, শপথ গ্রহণ, র্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন, ক্লাব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিকে জোনালী বেহেনজী বলেন, এই আন্দোলন কেবল একটি সংগঠনের কর্মসূচি নয়, বরং একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্যোগ। নেশামুক্ত সমাজ গঠনে প্রত্যেক নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তাই তিনি বিভিন্ন ক্লাব, ক্রীড়া সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে এই জাতীয় অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, অসম, মেঘালয়, মনিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের ব্রহ্মাকুমারী সেবা কেন্দ্রগুলিও এই কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রতিটি সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেশার কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নেশামুক্ত জীবনের শপথ গ্রহণ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
এদিকে, এই জাতীয় প্রচার অভিযানের সূচনা উপলক্ষ্যে রবিবার সকালে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা কেন্দ্রের সদস্য-সদস্যাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। সেই অনুষ্ঠান উপলক্ষে আগরতলা টাউন হলে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ব্রহ্মাকুমারী পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই জাতীয় উদ্যোগের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ নেশামুক্ত জীবনের শপথ গ্রহণ করবেন এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও মাদকমুক্ত ভারত গঠনের লক্ষ্যে নতুন সামাজিক আন্দোলনের সূচনা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ