হারাংগাজাওয়ে ফ্লাইওভারের কাজ শেষের পথে
হারাংগাজাওয়ে ফ্লাইওভারের কাজ শেষের পথে মাসের শেষে খুলতে পারে একাংশ, সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো ডাবল লেন চালুর আশ্বাস হাফলং (অসম), ১২ আগস্ট (হি স) পাহাড়ি পথে দীর্ঘদিনের যানজট, দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং যান চলাচলের চাপ কমানোর লক্ষ্যে হারাংগাজাও শিবমন্দির
East west Coridor


হারাংগাজাওয়ে ফ্লাইওভারের কাজ শেষের পথে

মাসের শেষে খুলতে পারে একাংশ, সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো ডাবল লেন চালুর আশ্বাস

হাফলং (অসম), ১২ আগস্ট (হি স) পাহাড়ি পথে দীর্ঘদিনের যানজট, দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং যান চলাচলের চাপ কমানোর লক্ষ্যে হারাংগাজাও শিবমন্দির সংলগ্ন মহাসড়কে নির্মীয়মাণ ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে চলতি মাসের শেষের দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভারের একটি ডাবল লেন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। এমন সম্ভাবনায় আপাতত আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের যাত্রীরা। হারাংগাজাও শিবমন্দির সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ি সড়কপথের অন্যতম ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। বর্ষাকালে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ধস, পাথর গড়িয়ে পড়া এবং রাস্তার উপর কাদা-মাটির স্তর জমে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ফলে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্যবাহী যানগুলিকেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচলে বড় ধরনের স্বস্তি মিলবে বলেই আশা স্থানীয়দের।

বুধবার নির্মাণ সংস্থার এক আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় ১.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে চার লেনের মধ্যে একটি ডাবল লেনের কাজ সম্পূর্ণ করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা কোনও কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ওই অংশটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে সময়সীমা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দিতে নারাজ নির্মাণ সংস্থা। আধিকারিকটির কথায়, ‘‘প্রকৃতি সহায় হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব। কিন্তু এই পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া এবং মাটির পরিস্থিতি কখন কী রকম আচরণ করবে, তা আগে থেকে বলা কঠিন।’’বিশেষ করে বর্ষার সময়ে পাহাড়ি মাটির চরিত্র দ্রুত বদলে যায়। কোথাও মাটি বসে যায়, কোথাও আবার জল ঢুকে নতুন করে দুর্বল হয়ে পড়ে পাহাড়ের ঢাল। ফলে নির্মাণকাজের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রেখে এগোতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে কাজের গতি সাময়িক ভাবে কমে গেলে নির্ধারিত সময়সীমা কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে। নির্মাণ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ডাবল লেনটি চালু করার পর পর্যায়ক্রমে বাকি অংশের কাজও সম্পূর্ণ করা হবে। আগামী দু’ থেকে তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ডাবল লেনটিও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ১.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের ফ্লাইওভারটি পুরোপুরি কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। ফ্লাইইওভার নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিমধ্যে স্বস্তির সুর শোনা যাচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি রাস্তার উপর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ হলে যান চলাচল ধীর হয়ে যায়। ভারী যানবাহনের চাপও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফ্লাইওভার চালু হলে মূল সড়কের উপর যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি যাতায়াত আরও নিরাপদ ও মসৃণ হবে বলে তাঁদের আশা। নিত্যযাত্রীদের একাংশের বক্তব্য, শুধু স্থানীয় যান চলাচল নয়, এই সড়কপথ দিয়ে দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানও চলাচল করে। ফলে কোনও কারণে রাস্তার ওই অংশে যান চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায়। সেই জায়গায় ফ্লাইওভারটি চালু হলে যান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, ফ্লাইওভারের কাজ শেষ করার পাশাপাশি সংযোগকারী রাস্তা, জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পাহাড়ের ঢালের স্থায়িত্বের দিকেও সমান নজর দেওয়া জরুরি। কারণ শুধু মূল কাঠামো তৈরি হলেই পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বর্ষার জল যাতে ফ্লাইওভারের সংযোগস্থলে জমে না থাকে এবং পাহাড়ের মাটি যাতে নতুন করে ধসে না পড়ে, সে দিকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ফলে এখন নজর নির্মাণকাজের শেষ পর্বের দিকে। প্রকৃতি কতটা সহায় হয় এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা যায় কি না, তার উপরই নির্ভর করছে বহু প্রতীক্ষিত ফ্লাইওভারের প্রথম অংশ কবে খুলবে। মাসের শেষেই যদি একটি ডাবল লেন চালু হয়, তা হলে হারাংগাজাওয়ের ব্যস্ত সড়কপথে যান চলাচলে নতুন স্বস্তির সূচনা হবে বলেই আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande